নির্ধারিত সময়েই ছাড়ছে লঞ্চ, চাপ বাড়লেও চাঁদপুরে ফিরতি ঈদযাত্রায় স্বস্তি
পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দঘন ছুটি শেষে আবারও চেনা কর্মব্যস্ত জীবনে ফিরতে শুরু করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। আজ সোমবার (১ জুন) সকাল থেকেই চাঁদপুর লঞ্চঘাটে ঢাকামুখী যাত্রীদের উল্লেখযোগ্য ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
সকাল থেকে ঘাট এলাকায় যাত্রীদের উপস্থিতি ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। অনেকেই প্রিয়জনদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে লঞ্চে ওঠার প্রস্তুতি নেন এবং দুপুরের দিকে এই যাত্রীচাপ আরও বৃদ্ধি পায়। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী লঞ্চ চলাচল করায় যাত্রীদের মধ্যে কোনো ক্ষোভ বা ভোগান্তি দেখা যায়নি এবং ঘাটে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতাও ছিল চোখে পড়ার মতো। চাঁদপুর লঞ্চঘাট ঘুরে দেখা যায়, ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের ভিড়ে ঘাটের অপেক্ষমাণ এলাকাগুলো ভীষণ মুখরিত ও ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। কেউ চাকরির প্রয়োজনে, কেউ ব্যবসা-বাণিজ্যের কাজে আবার কোনো কোনো শিক্ষার্থী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কারণে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরছেন, যাদের হাতে ছিল প্রয়োজনীয় ব্যাগেজ ও ঈদের ছুটিতে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হরেক রকমের সামগ্রী।
ঈদ পরবর্তী এই বাড়তি যাত্রীচাপ সামাল দিতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সকাল থেকেই ঘাট এলাকায় বেশ সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে। যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ, নৌ-পুলিশ, আনসার ও স্কাউট সদস্যরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ঘাটে ঢাকাগামী যাত্রী আবু মুসা বলেন, ঈদের ছুটি পরিবারের সঙ্গে খুব আনন্দে কেটেছে। কিন্তু জীবিকার তাগিদে আবার কর্মস্থলে ফিরতেই হচ্ছে, তাই ছুটি শেষ হওয়ার আগেই রওনা দিয়েছি। এবারের ঈদযাত্রা বেশ স্বস্তিদায়ক ছিল।
আরেক যাত্রী রফিকুল ইসলাম জানান, ঈদের সময় বাড়িতে কয়েকদিন কাটিয়ে মানসিকভাবে অনেকটা প্রশান্তি পেয়েছেন এবং এখন নতুন উদ্যমে কাজে যোগ দিতে ঢাকায় ফিরছেন। লঞ্চে যাতায়াত তুলনামূলক আরামদায়ক ও যানজটমুক্ত হওয়ায় তিনি এবারও নৌপথকেই বেছে নিয়েছেন।
চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএয়ের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী ঈদ পরবর্তী সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে বলেন, ঈদে ঘরমুখো মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে নিজনিজ গন্তব্যে যেতে পারেন এবং ঈদ শেষে নিরাপদে কর্মস্থলে ফিরতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি আগে থেকেই নেওয়া হয়েছে। ঘাট এলাকায় যাত্রীদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সার্বক্ষণিক তদারকি চলছে। তিনি আরও জানান, চাঁদপুর লঞ্চঘাটের পাশে একটি বিশেষ যৌথ কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে, যার ফলে কোনো যাত্রী কোনো বিষয়ে অভিযোগ করলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। যাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও সেবার মান নিশ্চিত করতে বিআইডব্লিউটিএ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে থেকে কাজ করে যাচ্ছে।

শরীফুল ইসলাম, চাঁদপুর