মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাস্তব পদক্ষেপ চায় সিপিডি
নতুন অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি সাত দশমিক ৫০ শতাংশের যে লক্ষ্য ঠিক করেছে বিএনপি সরকার তা পূরণে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। একইসঙ্গে খাদ্য সরবরাহ ঠিক রাখাসহ জ্বালানি সংকট সমাধান করতে হবে।
আজ শুক্রবার (১২ জুন) গুলশানে জাতীয় বাজেট ২০২৬–২৭: সিপিডির পর্যালোচনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন এ কথা বলেন।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার ব্যয়ের বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। যা চলতি অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় ১৯ শতাংশ বেশি। বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এতে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ ধরা হয়েছে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি সাত দশমিক ৫০ শতাংশ নির্ধারণ ঘোষণাও রয়েছে। বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা।
মূল্যস্ফীতি লক্ষ্য অর্জন করতে হলে অনেক ভালো ভালো পদক্ষেপ নিতে হবে জানিয়ে ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাস্তবসম্মত মুদ্রানীতি অবলম্বন করতে হবে। সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি আরও কিছুদিন চালিয়ে নিতে হবে। খাদ্য সরবরাহ ঠিক রাখতে হবে। চাল উৎপাদনে সরবরাহজনিত সমস্যা আছে। সেখানে নজর দিতে হবে। জ্বালানি সংকট রয়েছে, সেটার সমাধান করতে হবে।
গত চার বছর ধরেই মূল্যস্ফীতি চড়া জানিয়ে ফাহমিদা খাতুন বলেন, এখন একটা ক্রিটিকাল সময়, কারণ হলো জ্বালানি সংকট। সামষ্টিক অর্থনীতির প্রায় সব সূচক চাপের মুখে রয়েছে। সামষ্টিক অর্থনীতি এখন দুর্বল। তবে রিজার্ভ ও রেমিটেন্স বাড়ছে। অন্যান্য সূচক ভালো অবস্থানে নেই। এমন প্রেক্ষাপটে জিডিপির প্রাক্কলন করা হয় ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। কিন্তু চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত সরকারি হিসাবেই ৪ শতাংশের বেশি। এটা কীভাবে হবে তাও বিবেচনায় নিতে হবে।
ফাহমিদা খাতুন আরও বলেন, চলতি অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন সক্ষমতা দেখলে বোঝা যায় আগামী বাজেট বাস্তবায়নের বড় আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে। এতো বড় বাজেটের বড় আকাঙ্ক্ষাটাই বড় চ্যালেঞ্জ। ব্যক্তিখাতে ঋণ প্রবাহের প্রবৃদ্ধি আগামী বাজেটে ধরা হয়েছে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের বাজেটে গত এপ্রিল পর্যন্ত হয় চার দশমিক ৭৫ শতাংশ। ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগ এখনও নিম্নমুখী ধারায় রয়েছে। এমন বাস্তবতায় দেখা যায়, ব্যক্তি খাতের এক ধরনের অনীহা ও আস্থার অভাব রয়েছে, লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে তা ফিরিয়ে আনতে হবে।
ঋণে নির্ভরতা বাড়ছে জানিয়ে ড. ফাহিমদা বলেন, অর্থনীতিতে উন্নয়ন ব্যয় বাড়লে কর্মসংস্থান বাড়ে ও আয়ের পথও তৈরি হয়। কিন্তু রাজস্ব আদায় কীভাবে বাড়ানো হবে তাও বিবেচনায় নিতে হবে।
নতুন অর্থবছরের বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ ও মূল্যস্ফীতি সাত দশমিক ৫০ শতাংশ নির্ধারণের ঘোষণা আসে। ব্যয় মেটাতে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তবে বিনিয়োগ খরা, দুর্বল ব্যাংক ও আর্থিক খাত, ধীরগতির রাজস্ব আদায়, রপ্তানির নেতিবাচক ধারা ও চড়া মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা অর্থনীতিতে কীভাবে এ দুই লক্ষ্য অর্জন করা হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পথরেখা দেখা যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক