মাদকবিরোধী অভিযানে মব সৃষ্টি করে হ্যান্ডকাপসহ আসামি ছিনতাই
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া পোড়াভিটা এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে প্রশাসনের ওপর হামলা ও হ্যান্ডকাপ পরানো এক ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা গেছে।
শনিবার (২০ জুন) বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত গোয়ালন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুনতাসীর হাসান খানের নেতৃত্বে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর দৌলতদিয়া এশিয়া বোর্ডিং ও পোড়াভিটা এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে আশীষ চন্দ্র শীল (২৬) নামে এক ব্যক্তিকে গাঁজাসহ আটক করা হয়। তিনি ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার বেলিশ্বর এলাকার মৃত আনন্দ চন্দ্র শীলের ছেলে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। এদিকে, পোড়াভিটা এলাকার ফয়সাল (২৪) নামে আরেক ব্যক্তিকে মাদক ও নগদ টাকাসহ আটক করা হয় বলে দাবি প্রশাসনের।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসীর হাসান খান জানান, আটক ফয়সালকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা হ্যান্ডকাপ পরানোর পর স্থানীয় সংঘবদ্ধ মাদক ব্যবসায়ীরা হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কয়েকজন সদস্য আহত হন।
মুনতাসীর হাসান খান বলেন, “পোড়াভিটা এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে দুজনকে আটক করা হয়েছিল। একজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়। অপরজনকে আটক করার পর স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীরা সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।”
মুনতাসীর হাসান খান আরও বলেন, “পোড়াভিটার মাদকের সম্রাজ্ঞী হিসেবে পরিচিত লাইলীর বাড়িতে অভিযানের সময় তার স্বামী পেছনের দরজা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তাকে আটক করতে গেলে লাইলীর লোকজন মব সৃষ্টি করে আসামি ছিনিয়ে নেয়।”
ঘটনার পর গোয়ালন্দ ঘাট থানাকে অবহিত করা হয় বলেও জানান তিনি। তবে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “এ ধরনের কোনো ঘটনার বিষয়ে আমার জানা নেই।”
অন্যদিকে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ বলেন, “আজকের অভিযানে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আমাদের কোনো সদস্য আহত হননি এবং আমাদের হ্যান্ডকাপও আমাদের কাছেই রয়েছে।”

মো. কবির হোসেন, রাজবাড়ী