মন্ত্রীর চারপাশে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা উন্মাদনা, বাসস্ট্যান্ডে যেন ফুটবল উৎসব
ফুটবল শুধু মাঠের খেলা নয়, এটি আবেগের নাম—আর সেই আবেগই এবার ছড়িয়ে পড়ল মানিকগঞ্জের ব্যস্ত বাসস্ট্যান্ডে।
দিনব্যাপী সরকারি কর্মসূচি শেষে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা যখন মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছান, তখনই তাঁকে ঘিরে ধরেন ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা। তবে রাজনৈতিক আলাপ নয়, মুহূর্তেই সেখানে শুরু হয়ে যায় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের প্রাণবন্ত ফুটবল উৎসব।
হাস্যোজ্জ্বল মুখে মন্ত্রীকে ঘিরে দাঁড়ান উৎসুক সমর্থকেরা। কারও হাতে ব্রাজিলের সবুজ-হলুদ পতাকা, কারও কণ্ঠে আর্জেন্টিনার জয়ধ্বনি। হাসি-ঠাট্টা, খুনসুঁটি আর ছবি তোলার মধ্য দিয়ে কয়েক মিনিটের জন্য মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড যেন রূপ নেয় এক টুকরো ফুটবল মঞ্চে।
ছবিতে দেখা যায়, মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা দুহাতে ব্রাজিলের পতাকা ধরে সমর্থকদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিচ্ছেন। তাঁকে ঘিরে থাকা নেতা-কর্মীদের উচ্ছ্বাসে স্পষ্ট হয়ে ওঠে—বিশ্বকাপের উত্তাপ এখন শুধু স্টেডিয়ামে নয়, ছড়িয়ে পড়েছে জনপদের অলিগলি, আড্ডা আর মানুষের হৃদয়েও।
এ সময় উপস্থিত নেতা-কর্মীরা মন্ত্রীকে নিজেদের ‘প্রিয় অভিভাবক’উল্লেখ করে মজার ছলে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা—দুই শিবিরের মাঝখানে দাঁড় করিয়ে দেন। কে তাঁকে নিজেদের সমর্থক বানাতে পারবেন, তা নিয়ে শুরু হয় বন্ধুত্বপূর্ণ টানটান ‘লড়াই’। কেউ ব্রাজিলের পক্ষে যুক্তি দেন, কেউ আর্জেন্টিনার শ্রেষ্ঠত্বের গল্প শোনান। আর পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল প্রাণখোলা হাসি আর উৎসবের আমেজ।
ব্যস্ত কর্মসূচির ক্লান্তি ভুলে মন্ত্রীও যোগ দেন সেই আনন্দে। সমর্থকদের সঙ্গে ছবি তোলেন, পতাকা হাতে হাসিমুখে কাটান কয়েকটি স্মরণীয় মুহূর্ত। রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতার গণ্ডি পেরিয়ে সেখানে ফুটে ওঠে এক অন্যরকম মানবিক দৃশ্য—যেখানে ফুটবল এক করে দেয় সবাইকে।
মানিকগঞ্জের এই মুহূর্ত যেন নতুন করে মনে করিয়ে দিল, ফুটবল কেবল ৯০ মিনিটের খেলা নয়; এটি মানুষকে কাছাকাছি আনার, বিভাজন ভুলিয়ে একসঙ্গে হাসার এক অনন্য উপলক্ষ।
আর সেই আবেগেই, এক সন্ধ্যার জন্য হলেও মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড হয়ে উঠেছিল ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা উন্মাদনায় রঙিন এক ছোট্ট বিশ্বকাপ অঙ্গন।

আহমেদ সাব্বির সোহেল, মানিকগঞ্জ