জুয়া প্রতিরোধ আইনে দেশের প্রথম মামলা জীবননগর থানায়
দেশে সদ্য কার্যকর হওয়া ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন-২০২৬’ এর আওতায় প্রথম মামলা দায়ের হয়েছে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থানায়। শনিবার (৪ জুলাই) দায়ের হওয়া এ মামলায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও চার থেকে পাঁচজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, নতুন আইনে এটিই দেশের প্রথম মামলা।
থানা-পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৩ জুলাই) রাত ১০টা ৪০ মিনিটে জীবননগর থানার রাত্রীকালীন টহল চলাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, জীবননগর-দর্শনা মহাসড়কের আধুনিক সিনেমা হলের সামনে একটি চায়ের দোকানে ক্যারাম বোর্ডের মাধ্যমে জুয়া খেলা চলছে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে উপপরিদর্শক (এসআই) পবিত্র কুমারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জুয়ায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে অভিযানে ব্যবহৃত চায়ের দোকান থেকে দুটি ক্যারাম বোর্ড জব্দ করা হয়।
মামলায় আসামি করা হয়েছে— দেলোয়ার হোসেন, মাসুম, মাহবুব আলম, জামাত আলী, লালন, জব্বার, রুবেল, সামাউল, জাফর হোসেন, ফারুক, রাজু আহম্মেদ সুইট, নজরুল ইসলাম, শিকদার ও মিন্টুকে। এছাড়া আরও চার থেকে পাঁচজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রধান আসামি দেলোয়ার হোসেনের চায়ের দোকানটি জুয়া খেলার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হতো। সেখানে ক্যারাম বোর্ডের মাধ্যমে বাজি ধরে জুয়া খেলার সুযোগ দেওয়া হতো। এ ঘটনায় জুয়া প্রতিরোধ আইন-২০২৬ এর ১৫, ১৮, ১৯ ও ২০ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান সেখ জানান, গত ১ জুলাই থেকে নতুন জুয়া প্রতিরোধ আইন-২০২৬ কার্যকর হয়েছে। এই আইনে অনলাইন বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো, ম্যাচ-ফিক্সিং এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে জুয়া খেলা বন্ধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
ওসি সোলায়মান সেখ বলেন, ‘আইন কার্যকর হওয়ার পর চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জীবননগর থানায় আজ যে মামলাটি হয়েছে, আমার জানামতে এটি এই আইনে দেশের প্রথম মামলা। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

রিপন হোসেন, চুয়াডাঙ্গা (জীবননগর, দামুড়হুদা ও দর্শনা স্থলবন্দর)