এনসিপির বিস্ফোরণ : থানার সামনে নেতাকর্মীদের অবস্থান ও বিক্ষোভ
ঢাকার সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ পরবর্তী সমাবেশস্থলে ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণের আকস্মিকতায় পুরো সমাবেশস্থলে তীব্র আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ি তৈরি হয়। ঘটনাস্থল থেকে রক্তাক্ত বেশ কিছু স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়েছে এবং অন্তত দুইজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) রাত পৌনে ১০টার দিকে সাভার থানা স্ট্যান্ড সংলগ্ন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে কারা কী উদ্দেশ্যে এই হামলা চালিয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় ঢাকা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ মঞ্চে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। ঠিক তখনই বিকট শব্দে বোমাটি বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের পর নেতাকর্মীরা আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করলে ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ মাইকে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
এই হামলার প্রতিবাদে সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে তাৎক্ষণিকভাবে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করেন উত্তেজিত নেতাকর্মীরা। মিছিলটি নির্ধারিত সমাবেশস্থল থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে অবস্থিত সাভার মডেল থানার সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। থানায় যাওয়ার পথে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা ‘অ্যাকশন অ্যাকশন ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘সাভারে হামলা কেন, তারেক রহমান জবাব চাই’ সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দিতে থাকেন।
পরে সাভার মডেল থানার সামনে একটি রিকশায় দাঁড়িয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আজ সাভারে আমাদের শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা ও পথসভা ছিল। কর্মসূচি শুরুর ঠিক প্রাক্কালে হঠাৎ পুরো এলাকার বিদ্যুৎ চলে যায় এবং পরিকল্পিতভাবে এই বোমা হামলা চালানো হয়। আমাদের কর্মসূচিতে নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব ছিল পুলিশ ও প্রশাসনের, কিন্তু তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। কারা এই হামলা করেছে তা আমরা নির্দিষ্ট করে না জানলেও, এই হামলার সম্পূর্ণ দায় প্রশাসনকে নিতে হবে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কীভাবে এই ধরনের বোমা হামলা চালানো হলো, আমরা তার স্পষ্ট জবাব চাই।’
নাহিদ ইসলাম আরও অভিযোগ করে বলেন, ‘এই এলাকায় কারা আওয়ামী লীগ তথা ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত এবং কারা মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, তা আমরা জানতে চাই। তারা ভেবেছিল বোমা হামলা করে আমাদের ভয় দেখিয়ে পদযাত্রাকে থামিয়ে দেবে, কিন্তু তা কোনোদিনও সম্ভব নয়। জীবন গেলে রাজপথেই যাবে, আর এই জীবন দেওয়ার জন্য আমরা চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানেই প্রস্তুত ছিলাম।’
বোমা হামলায় আহতদের সুচিকিৎসা ও দ্রুত বিচার দাবি করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘শহীদ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনো কেন হয়নি, আমরা প্রধানমন্ত্রী ও তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তার জবাব চাই।’ একইসঙ্গে তিনি নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার নির্দেশ দিয়ে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান এবং একটি প্রতিনিধি দলকে পুলিশের সঙ্গে কথা বলতে থানায় পাঠান। হামলাকারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘গুলি করলে গুলি করেন, বোমা মারলে বোমা মারেন। আওয়ামী লীগ-বিএনপি সব একাকার হয়ে আপনারা সামনে আসুন, দেখি আপনাদের কত সাহস।’
এদিকে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা ইয়াসির আরাফাত জানান, সাভার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে এনসিপির পদযাত্রাপরবর্তী সমাবেশস্থলে কাপুরুষোচিত বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এভাবে জুলাই যোদ্ধাদের কোনোভাবেই অবনত করা যাবে না। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে দেশের মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে জুলাই সনদকে স্বীকৃতি দিয়েছে। কিন্তু বিএনপি সরকার গঠনের পর সেই জুলাই সনদকে অস্বীকার করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা এবং জাতির সঙ্গে গাদ্দারি করেছে।
এনসিপির দলীয় নেতারা জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ গাজীপুরের কালীগঞ্জ থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ উদ্বোধন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী ৬৪ জেলা, ১০০ উপজেলা ও পৌরসভায় এনসিপির মাসব্যাপী পদযাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হলো। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সন্ধ্যা ৬টায় সাভারে পদযাত্রাটি পৌঁছানোর কথা থাকলেও বিভিন্ন কারণে বিলম্ব হওয়ায় প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর সাভারে এসে পৌঁছায় এনসিপির বহরটি।

জাহিদুর রহমান