দুই হাসপাতাল ও ক্লিনিক বন্ধের নির্দেশ, জরিমানা ৬০ হাজার
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে পরিচালিত একটি বিশেষ যৌথ অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের অপরাধে দুটি হাসপাতালের সকল কার্যক্রম ১৫ দিনের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে পৃথক তিনটি মামলায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।
গতকাল মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার কলেজ রোড এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন বেগমগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদাত হোসেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযান চলাকালে নাবিলা হসপিটালে পর্যাপ্ত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, প্রয়োজনীয় সংখ্যক নার্স এবং মানসম্মত লেবার রুম না থাকার প্রমাণ মেলে। এই অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এরপর হলি কেয়ার হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে সেখানেও লেবার রুম না থাকা এবং বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক না পাওয়ার অপরাধে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া ওই হাসপাতালসংলগ্ন ফার্মেসিতে মানবদেহের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ ও মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যানেস্থেসিয়া ওষুধ সংরক্ষণের অপরাধে আরও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান শেষে বেগমগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদাত হোসেন বলেন, পরিদর্শনে হাসপাতাল দুটির ভেতর নানা ধরনের চরম অনিয়ম ও বিধিবহির্ভূত কার্যক্রমের অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। চিকিৎসাসেবার মতো সংবেদনশীল খাতে এমন অবহেলা মেনে নেওয়া যায় না। তাই শনাক্ত হওয়া ত্রুটিগুলো সম্পূর্ণ সংশোধন এবং প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র হালনাগাদ না করা পর্যন্ত উভয় হাসপাতালের সব ধরনের চিকিৎসা ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম আগামী ১৫ দিনের জন্য বন্ধ রাখার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তিন মাস আগেও এই দুটি হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে একই অপরাধে তাদের জরিমানা করা হয়েছিল।
মহাসড়ক ও স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসাসেবার মান বজায় রাখতে পরিচালিত এই যৌথ অভিযানে জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন, বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হাসান খায়ের চৌধুরী এবং বেগমগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের একটি চৌকস দল সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।

মো. মাসুদ পারভেজ, নোয়াখালী