সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বান্দরবান, বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি
পার্বত্য জেলা বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। জেলার সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ আজও স্বাভাবিক হয়নি। তৃতীয় দিনের মতো যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে বান্দরবান-চট্টগ্রাম ও বান্দরবান-রাঙামাটি সড়কসহ সারা দেশের সঙ্গে।
এখনো থেমে থেমে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে বান্দরবান জেলা জুড়ে। এতে বৃহস্পতিবার খুবই ধীর গতিতে পানি কিছুটা কমলেও গতকাল শুক্রবার রাতের ও আজ শনিবার (১১ জুলাই) সকালের ভারি বৃষ্টিতে বন্যার পানি ফের বৃদ্ধি পেয়েছে। প্লাবিত এলাকাগুলোতে পানি বাড়ার পাশাপাশি আরও নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
আজ শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত বান্দরবান জেলায় গত চব্বিশ ঘণ্টায় ৭৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে বৃষ্টির পরিমাণ কমেছে বলে জানিয়েছেন জেলা আবহাওয়া কর্মকর্তা সনাতন কুমার মন্ডল।
বান্দরবানের স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টরা জানান, গত রোববার (৫ জুলাই) থেকে টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় জেলার সাতটি উপজলায় বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এলাকাগুলোতে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাইক্লোন সেন্টারে ২২০টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হলেও দুর্গতরা আশপাশের বিভিন্ন ভবন ও স্থাপনায় আশ্রয় নিয়েছে।
এদিকে, অব্যাহত বর্ষণে বান্দরবানে সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদী তীরবর্তী কয়েকশ ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে গেছে। অন্যদিকে, অব্যাহত বৃষ্টির কারণে পাহাড় ধসে প্রাণহানির শঙ্কা বাড়ছে। ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলো ছেড়ে লোকজনদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।
লোকজনকে সরে যেতে নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এসএম মঞ্জুরুল হক বলেন, ‘দুর্গতদের সেবায় সম্মিলিতভাবে সবাই কাজ করছি। বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বেড়েছে মানুষের ভোগান্তি। আশ্রয় কেন্দ্র এবং বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেওয়া বন্যাদুর্গতদের শুকনো খাবার, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ করা হচ্ছে প্রতিদিন।’

আলাউদ্দিন শাহরিয়ার, বান্দরবান