যমুনায় পানি বৃদ্ধি, বন্যার ঝুকিতে ৩১ ইউনিয়ন
টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে নদীর নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এদিকে যমুনা নদীতে পানি বাড়ার কারণে জেলার ৮৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩১টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে বন্যার স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, যমুনা নদীর পানি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্টে যমুনার পানি ৭ সেন্টিমিটার এবং কাজীপুর মেঘাই ঘাট পয়েন্টে ৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি বৃদ্ধির ফলে নতুন নতুন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে।
নদীভাঙন পরিস্থিতি নিয়ে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নদী তীরবর্তী এলাকায় অবস্থানরত সকলকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়ে ফেসবুকে সতর্কবার্তা পোস্ট করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, চৌহালী উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চরছলিমাবাদ, ওমারপুর ইউনিয়নের ভূতের মোড় এবং খাসপুকুরিয়া ইউনিয়নের শাকপাল এলাকায় নদীভাঙনে আবাদি জমি ও বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এসব এলাকার বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. নুরুল আমীন বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে আকস্মিক বন্যায় মানুষের জানমাল ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। সিরাজগঞ্জ জেলা যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত হওয়ায় এখানেও বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। জেলার ৮৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩১টি ইউনিয়নকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে কাজীপুরের ৭টি, সদরের ৪টি, বেলকুচির ২টি, চৌহালীর ৫টি, শাহজাদপুরের ৮টি এবং উল্লাপাড়ার ২টি ইউনিয়ন রয়েছে।
সিভিল সার্জন আরও বলেন, সম্ভাব্য বন্যা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় ৯টি উপজেলায় ৯টি এবং ৮৩টি ইউনিয়নে ৮৩টি বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত জরুরি ওষুধপত্র মজুদ রাখা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতিতে পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টিতে মাইকিং ও বিভিন্ন প্রচারণার মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা এবং বিশুদ্ধ পানি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

শরীফুল ইসলাম ইন্না, সিরাজগঞ্জ