শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে দিনাজপুরে সড়ক-রেল অবরোধ
শিক্ষামন্ত্রী ডা. এ এন এম এহসানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে দিনাজপুরে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বিভিন্ন শিক্ষার্থীরা। আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শহরের নিমনগর ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়।
আন্দোলন চলাকালে একটি যাত্রীবাহী বাস ভাঙচুরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে একপর্যায়ে পরিবহণ শ্রমিকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। এই সংঘর্ষ ও দ্বিমুখী অবরোধের কারণে কয়েক ঘণ্টা ধরে জেলার সড়ক যোগাযোগ কার্যত অচল হয়ে পড়ে এবং দিনাজপুর রেলস্টেশনে আটকে যায় ঢাকাগামী আন্তনগর ট্রেন।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবি, বর্তমান তীব্র প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও চলমান এইচএসসি পরীক্ষা অব্যাহত রাখার একমুখী সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের জন্য চরম ও অমানবিক ভোগান্তির সৃষ্টি করেছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে তারা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে, যা পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর প্রায় পৌনে ২টার দিকে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ‘রাহী এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস ভাঙচুরের অভিযোগ তোলেন পরিবহণ শ্রমিকরা। এর প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আড়াআড়িভাবে বাস রেখে পাল্টা সড়ক অবরোধ করেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং তা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। এই সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন শিক্ষার্থী ও তিনজন পরিবহণ শ্রমিক আহত হন। পরবর্তীতে আহতদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এদিকে এই ঘটনার কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যাতে চরম দুর্ভোগে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রী ও সাধারণ মানুষ। একই সঙ্গে রেল চলাচলেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। পঞ্চগড় থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা আন্তনগর ‘পঞ্চগড় এক্সপ্রেস’ ট্রেনটির দুপুর ২টা ১০ মিনিটে দিনাজপুর স্টেশন ত্যাগ করার কথা থাকলেও, রেলপথ অবরোধের কারণে ট্রেনটি দিনাজপুর রেলস্টেশনে আটকা পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও পরিবহণ শ্রমিকদের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা চালান।
দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নূরনবী বলেন, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আমরা কথা বলছি। শান্তিপূর্ণভাবে পরিস্থিতির সমাধান এবং অবরোধ প্রত্যাহারের জন্য চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পরবর্তীতে বিকেল পৌনে ৫টার দিকে পরিবহণ শ্রমিকরা তাদের সড়ক অবরোধ তুলে নিলেও, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনকে বেশ কিছু সময় কাজ করতে হয়। বর্তমানে পুরো এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বাস ভাঙচুর ও সংঘর্ষের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

মাসুদ রানা, দিনাজপুর (বীরগঞ্জ-খানসামা)