জোবায়েদ হত্যা : ৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জোবায়েদ হোসেন হত্যা মামলায় বার্জিস শাবনাম বর্ষাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ।
সম্প্রতি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফ হোসেন এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে মো. মাহির রহমান ও ফারদীন আহম্মেদ আয়লানকেও আসামি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এসআই কামাল হোসেন বলেন, গত ৩০ জুন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। বিচারক আগামী ১২ আগস্ট এ মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণের বিষয়ে শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন।
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, জোবায়েদ হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করাতেন। প্রতিদিনের মতো তিনি ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বংশাল থানাধীন ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে নুর বক্স লেনের ১৫ নম্বর হোল্ডিং রৌশান ভিলায় পড়ানোর জন্য যান। একই তারিখে সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটে ওই ছাত্রী জোবায়েদ হোসেনের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট ভাই সৈকতকে ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে জানায়, জোবায়েদ খুন হয়ে গেছে, কারা যেন তাকে খুন করে ফেলছে। বিষয়টি ওইদিন রাত ৭টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কামরুল হাসান ভুক্তভোগী জোবায়েদের ভাই এনায়েত হোসেনকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানান। পরে এনায়েত তার শ্যালক শরীফ মোহাম্মদকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে ওইদিন রাত সাড়ে আটটার দিকে ঘটনাস্থল রৌশান ভিলায় পৌঁছান। ওই ভবনের নিচতলা থেকে ওপরে ওঠার সময় তিনি সিঁড়ি ও দেয়ালে রক্তের দাগ দেখতে পান। ওই ভবনের ৩য় তলার রুমের পূর্ব পার্শ্বে সিঁড়িতে গেলে সিঁড়ির ওপর জোবায়েদের রক্তাক্ত মরদেহ উপুড় অবস্থায় দেখতে পান। পরে ময়নাতদন্ত শেষে গত ২০ অক্টোবর জোবায়েদকে কুমিল্লার কৃষ্ণপুর গ্রামে দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় ২১ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে জোবায়েদের ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বাদী হয়ে রাজধানীর বংশাল থানায় হত্যা মামলা করেন।

আদালত প্রতিবেদক