শিশু আয়ানী হত্যা মামলায় রুবেলের মৃত্যুদণ্ড
চট্টগ্রামে নয় বছরের শিশু আবিদা সুলতানা আয়নী (আঁখি মনি) ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি সবজি বিক্রেতা রুবেলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসামির উপস্থিতিতে এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।
মামলা ও বাদী পক্ষ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থানার কাজীর দীঘি এলাকায় মায়ের সাথে থাকত শিশু আয়নী। ২০২৩ সালের ২১ মার্চ বিড়াল ছানা দেওয়ার লোভ দেখিয়ে শিশুটিকে একটি ঘরে নিয়ে যায় একই এলাকার সবজি বিক্রেতা রুবেল। সেখানে তাকে পাশবিক নির্যাতনের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহটি গুম করার উদ্দেশ্যে পাশের একটি ডোবা ও ময়লার স্তূপে চাপা দিয়ে রাখা হয়।
শিশুটির নিখোঁজের ঘটনায় নানা তথ্য যাচাই করে পুলিশ রুবেলকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনার আট দিন পর আদালতের দ্বারস্থ হলে পিবিআই তদন্তে নেমে ঘটনার ৯ দিন পর ডোবা থেকে আয়নীর পচে-গলে যাওয়া মরদেহ উদ্ধার করে। গ্রেপ্তারের পর রুবেল পুলিশের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করে।
রাষ্ট্রপক্ষ ও বাদী পক্ষের আইনজীবী মাহমুদ উল আলম চৌধুরী বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ, ডিএনএ রিপোর্ট এবং ২৪ জন সাক্ষীর অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে আসামির অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। আদালত আসামিকে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় মৃত্যুদণ্ড, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, এবং ৯(৪)খ ধারায় ১০ বছরের কারাদণ্ডসহ ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন। এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ।

আরিচ আহমেদ শাহ, চট্টগ্রাম