জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে গ্যাংওয়ে, চরম ভোগান্তি
টানা বৃষ্টি ও অস্বাভাবিক জোয়ারের টানে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বরগুনার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ফেরিঘাটের গ্যাংওয়ে পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ফেরি পারাপার চরমভাবে ব্যাহত হওয়ায় যাত্রী ও যানবাহন চালকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পাশাপাশি ঘাটসংলগ্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নদীর পানি ঢুকে পড়েছে এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় বেড়িবাঁধের বাইরের বসতবাড়িগুলো নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
আজ সোমবার (২০ জুলাই) সকাল থেকে বরগুনা জেলার বিভিন্ন এলাকায় বজ্রপাতসহ থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির মধ্যেও জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে জনজীবনে স্থবিরতার চিত্র।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, স্বাভাবিক জোয়ারের তুলনায় নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। পায়রা, বলেশ্বর ও বিষখালী নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে বরগুনা-পুরাকাটা ও বড়ইতলা-বাইনচটকি ফেরিঘাটে। দুই ঘাটেরই গ্যাংওয়ে জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ফেরিতে যানবাহন ওঠানামা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বরগুনা-পুরাকাটা ফেরিঘাটে অপেক্ষমান যাত্রী মো. কবির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সকালে যে পরিমাণ পানি ছিল, দুপুরে তা আরও বেড়েছে। দুর্যোগ এলেই আমাদের একই দুর্ভোগে পড়তে হয়। এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে এই চিরচেনা সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতো।
আরেক যাত্রী হাবীব বলেন, প্রতিবছরই বর্ষায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। পাথরঘাটা থেকে গুরুতর কোনো রোগী নিয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে যেতে তখন চরম সমস্যায় পড়তে হয়। বিকল্প পথ না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই আমাদের চলাচল করতে হচ্ছে।
এদিকে বড়ইতলা ফেরিঘাট এলাকার বাসিন্দা মো. আজিজ বলেন, উঁচু জোয়ার এলেই নদীর পানি বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়ে। আগের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই আবার নতুন করে একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান বলেন, গত কয়েকদিন ধরে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও বৃষ্টির কারণে সর্বোচ্চ জোয়ারের সময় নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উপকূলীয় এলাকার কোথাও বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা তাৎক্ষণিকভাবে মেরামতের জন্য আমাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।

মাহমুদুর রহমান, বরগুনা (পাথরঘাটা-তালতলী)