ধানক্ষেতে মিলল নিখোঁজ শিশুর মরদেহ
বগুড়ার শেরপুরে নিখোঁজের তিন দিন পর ধানক্ষেত থেকে সাত বছর বয়সী শিশু রাজুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অটোভ্যান চুরির একমাত্র সাক্ষী হয়ে যাওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।
আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় শেরপুর থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মইনুদ্দীন।
সংবাদ সম্মেলনে ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় অটোভ্যান চুরি ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী প্রধান অভিযুক্তের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। নিহত শিশু রাজু শেরপুর উপজেলার সীমাবাড়ী ইউনিয়নের ররোয়া গ্রামের আলমের ছেলে। সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বড়ইচড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ আরও জানায়, গত ৪ আগস্ট রাজুকে সঙ্গে নিয়ে বের হন একই গ্রামের বাসিন্দা মুস্তাকিম (২৪)। রাজু মাঝেমধ্যে মুস্তাকিমের ভগ্নিপতির মালিকানাধীন ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান চালিয়ে কৃষিকাজে সহায়তা করত। পুলিশের ভাষ্য, ভগ্নিপতির অটোভ্যানটি চুরির পরিকল্পনা করেছিলেন মুস্তাকিম। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় রাজুকেও সঙ্গে নেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ আরও জানায়, পরে মির্জাপুর এলাকার পুরোনো অটোভ্যান কেনাবেচার ব্যবসায়ী করিমের কাছে অটোভ্যানটি বিক্রির চেষ্টা করা হয়। কিন্তু রাজুকে সঙ্গে দেখে করিম আপত্তি জানান। তখন চুরির একমাত্র সাক্ষী হিসেবে শিশুটিকে বাঁচিয়ে রাখা যাবে না বলে সিদ্ধান্ত নেয় অভিযুক্তরা। এরপর তাকে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার একটি ধানক্ষেতে নিয়ে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রাখা হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ আরও জানায়, রাজুকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা প্রথমে মুস্তাকিমের বাড়িতে খোঁজ নেন। পরে বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে রাজুর বাবা আলম শেরপুর থানায় মামলা করেন। অভিযোগের পর তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পার্শ্ববর্তী রায়গঞ্জ উপজেলার একটি বাড়ি থেকে মুস্তাকিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে করিমকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেখানো স্থান তাড়াশ উপজেলার বড়ইচড়া গ্রামের ধানক্ষেত থেকে রাজুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে করিমের শ্বশুরবাড়ি থেকে খণ্ড-বিখণ্ড অবস্থায় রাখা চুরি হওয়া অটোভ্যানের চারটি ব্যাটারি, দুটি চাকা ও যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়।
উপপরিদর্শক (এসআই) বিকাশ চক্রবর্তী বলেন, শিশুটির মাথা কাদামাটির নিচে চাপা অবস্থায় ছিল। মরদেহে পচন ধরেছিল এবং বাঁ পায়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ দিকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ জনতা মুস্তাকিমের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। ঘটনার সময় বাড়িতে পরিবারের কোনো সদস্য ছিল না বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে।

জাহিদ হাসান বগুড়া (শেরপুর-নন্দিগ্রাম)