মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবার মৃত্যুদণ্ড
নিজের ১২ বছর বয়সী মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে আব্দুল খালেক নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন বগুড়ার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল। আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মারুফ হোসেন এই রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ২ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়। জরিমানার অর্থ ধর্ষণের শিকার সন্তানকে প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার পরপরই পুলিশ দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল খালেককে কারাগারে পাঠায়।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আলী আসগর বলেন, এটি নবগঠিত এই ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায়। ঘটনার পর থেকেই ভুক্তভোগী শিশুটি লোকলজ্জায় নিজেকে আড়াল করে রেখেছে।
বর্তমানে ১৮ বছর বয়সী ওই তরুণী কোথায় অবস্থান করছেন, তা কেউ জানে না বলেও সরকারি কৌঁসুলি আদালতে উল্লেখ করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বাগরা বস্তি এলাকার বাসিন্দা আব্দুল খালেকের সঙ্গে প্রায় ২০ বছর আগে পাশের উত্তর সাহাপাড়া এলাকার লাভলী খাতুন লাবনীর বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের এক কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। সন্তানের বয়স ৯ বছর হলে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। এরপর আব্দুল খালেক শিশুটিকে নিজের কাছে রেখে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। অন্যদিকে লাভলী বেগমও অন্যত্র বিয়ে করে বসবাস শুরু করেন।
পরবর্তীতে ২০২০ সালের ২০ অক্টোবর দিনগত রাত ১টার দিকে আব্দুল খালেক স্ত্রীর অনুপস্থিতির সুযোগে তার ১২ বছর বয়সী মেয়েকে ধর্ষণ করেন। পরে শিশুটি বিষয়টি তার মাকে জানালে এলাকাবাসীর সহায়তায় অভিযুক্ত আব্দুল খালেককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। ঘটনাটিতে শিশুটির মা লাভলী খাতুন শেরপুর থানায় মামলা করেন।
গ্রেপ্তারের পর আব্দুল খালেক ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে নিজ মেয়েকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে।

আতিকুর রহমান সোহাগ, বগুড়া