ইরানে যমজ বোনের একজনের মৃত্যুদণ্ড, অন্যজনের ২৫ বছরের জেল
চলতি বছরের শুরুর দিকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে ১৯ বছর বয়সী যমজ দুই বোনকে কঠোর শাস্তি দিয়েছে ইরানের আদালত। তাদের মধ্যে তারানেহ রহিমিকে মৃত্যুদণ্ড এবং তার বোন রোমিনা রহিমিকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যখন তাদের গ্রেপ্তার করা হয়, তখন তারা দুজনই উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থী ছিলেন। মাঝরাতে সশস্ত্র ব্যক্তিরা তাদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়, যাদের পরবর্তীতে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সদস্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর দীর্ঘ চার মাস পরিবার তাদের কোনো খোঁজ পায়নি। তাদের মা মারজিয়া নূরমোহাম্মদী বিভিন্ন হাসপাতাল ও সরকারি দফতরে ঘুরে অবশেষে জানতে পারেন, তার দুই মেয়ে ইস্পাহানের দৌলতাবাদ কারাগারে বন্দি রয়েছেন। মে মাসে মা তাদের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি পান। কিন্তু তিনি নিজের সন্তানদের চিনতেই পারেননি; কারণ তাদের শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং মুখমণ্ডল মারাত্মকভাবে ফুলে গিয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহতে বসবাসকারী তাদের কাজিন মাসুদ নূরমোহাম্মদী জানান, নির্যাতনের ফলে তাদের কনুই, আঙুলের জোড়া ও পায়ের হাড় ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। চুল উপড়ে ফেলা হয়েছিল। তাদের নির্জন কারাবাসে রাখা হতো। চুল ধরে এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে টেনে-হিঁচড়ে নেওয়া হতো।
মাসুদ নূরমোহাম্মদী বলেন, স্বপ্নবাজ তারানেহের চোখ দেখলেই তার সরলতা বোঝা যায়। আমার মনে হয় তারা (ইরান সরকার) কেবল মানুষের মনে চরম ভয় ঢুকিয়ে দিতে চায়।
তারানেহ আদালতকে জানান, তার কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে। স্বীকারোক্তিমূলক কাগজে সই না করলে তার বোন রোমিনাকে তার সামনেই ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে পরিবার।
তাদের বিচারে মা কিংবা পরিবারকে উপস্থিত থাকতে দেওয়া হয়নি। আইনজীবীরা আদালতে জানান, নির্যাতনের মাধ্যমে এই স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে। তাদের কোনো ধরনের সহিংসতায় যুক্ত থাকার প্রমাণও উপস্থাপন করা হয়নি।
গত ৮ ও ৯ জানুয়ারি ইস্পাহানে লাখ লাখ মানুষের সঙ্গে সাধারণ বিক্ষোভকারী হিসেবে দুই বোন মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন। এর আগে তারা কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেননি।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর এ বছর ইরানে ৫০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। যার মধ্যে অন্তত ২৯ জন ছিলেন সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অন্তত ১৬ জন নারীকে ইতোমধ্যে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক