দেশের মানুষকে দেখে রাখা সরকারের দায়িত্ব : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ এই সরকারকে নির্বাচিত করেছে। কাজেই এ সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের পাশে থাকা। এই সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের সুখে-দুঃখে থাকা। এ সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে এদেশের মানুষকে দেখে রাখা।
আজ শনিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের সমুদ্রসৈকতে আয়োজিত এক সমাবেশে এসব কথা বলেন সরকারপ্রধান।
সমাবেশে আগতদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার আপনাদের সঙ্গে আজকে দেখা হয়ে খুব ভালো লাগছে। আর বিশেষ করে ভালো লাগছে, এই এলাকায় কয়দিন আগে যে বন্যা হলো অতিবৃষ্টির কারণে, এই বন্যায় বহু মানুষের ঘরবাড়ি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। যাই হোক, আল্লাহর রহমতে আমরা ১০০ গরিব-দুঃস্থ পরিবারকে আজকে ঘরের চাবি হাতে উঠিয়ে দিতে পেরেছি। এ ছাড়া অনেক দুঃস্থ মানুষকে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা করেছি। কিছু দুঃস্থ নারীকে আমরা চাল দিয়েও সহযোগিতা করেছি।
তারেক রহমান বলেন, এই সরকারকে আপনারা নির্বাচিত করেছেন, এই বাংলাদেশের মানুষ এই সরকারকে নির্বাচিত করেছে। কাজেই এই সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের পাশে থাকা। এই সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের সুখে-দুঃখে থাকা। এ সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে এদেশের মানুষকে দেখে রাখা। এ সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে এদেশের মা-বোনদের পাশে থাকা। এই সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে এদেশের সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করা। এ সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে এদেশের মানুষ যারা অসুস্থ হবে, তাদেরকে যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেওয়া। এ সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে এই দেশের তরুণ সমাজ, যুবক সমাজ, নারী হোক, পুরুষ হোক তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রিয় ভাই-বোনেরা এজন্যই আপনারা দেখেছেন, নির্বাচনের সময় আমরা বলেছিলাম—বিএনপি যদি আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশের মানুষের ভোটে সরকার গঠনে সক্ষম হয়, তাহলে আমরা মূল কয়েকটি কাজে হাত দেবো। তার মধ্যে একটি কাজ ছিল এদেশের মায়েদেরকে সহযোগিতা করার জন্য এদেশের নারীরা যাতে স্বাবলম্বী হতে পারে, সেজন্য আমরা বলেছিলাম—আমরা ফ্যামিলি কার্ড ঘরে ঘরে পৌঁছাব। আপনারা দেখেছেন, সরকার গঠন এক মাসের মধ্যে আমরা সেই ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রজেক্টের কাজে হাত দিয়েছিলাম। ইনশাআল্লাহ আল্লাহর রহমতে পাইলট প্রজেক্টের কাজ শেষ হয়ে গেছে। ইনশাআল্লাহ আমরা সমগ্র বাংলাদেশে এ বছর ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আমরা প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের মায়ের হাতে আমরা এ ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেবো। ইনশআল্লাহ আপনাদেরও এ এলাকায় এই অঞ্চলে এই উপজেলার মধ্যে ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবারের হাতে আমরা ফ্যামিলি কার্ড এ অর্থবছরের মধ্যে তুলে দেবো। আগামী চার বছর ধরে এটি চলবে, আরও অনেক মা-বোনেরা এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবেন।
তারেক রহমান বলেন, কেন আমরা ফ্যামিলি কার্ড দিয়েছিলাম? আমাদের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল যাতে ভাইদের পাশাপাশি যাতে বোনেরাও সংসারের হাল ধরতে পারে। তারা যেন একটি স্বাবলম্বী পরিবার গড়ে তুলতে পারে, সন্তানদের লেখাপড়া দেখতে পারে। সন্তানদের যাতে স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারে মায়েরা। মায়েদের হাতকে শক্তিশালী করার জন্য আমরা এ ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করেছি। শুধু ফ্যামিলি কার্ডই নয়, ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি আমরা কৃষক কার্ডেরও ব্যবস্থা করেছি। এই যে বাঁশখালির কিছু অংশে লবণ চাষি ভাইয়েরা আছে। শুধু যে যারা ধান-পাট বা অন্যান্য শাকসবজি বা অন্যান্য ফসল চাষ করে, তারাই যে শুধু কৃষক কার্ড পাবে তা নয়। এমনকি লবণ চাষি ভাই যারা আছেন ইনশাআল্লাহ তাদের হাতে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক