ডুমুরিয়ায় খাল খননের ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ফেরত
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বিলডাকাতিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে দুটি খাল খননের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ে দুটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। কিন্তু প্রকল্প দুটির এক কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ১৯ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্প দুটি অপরিকল্পিত ও অপ্রয়োজনীয় হওয়ায় শুরুতেই সমালোচনার ঝড় ওঠে। এ রকম পরিস্থিতিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ একাধিকবার প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এমনকি পাঁচ থেকে সাত ফুট গভীর খাল থেকে ভেক্যু মেশিন দিয়ে পেড়িমাটি তুলে খালের পাড়েই রাখা হয়। উপজেলা প্রশাসন ও বাস্তবায়নকারী দপ্তরের উদাসীনতায় যেনতেনভাবে খাল খনন করে অর্থ উত্তোলনের চেষ্টা করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি।
এ দিকে খাতা কলমে সদ্য সমাপ্ত সাহস ডোলডাঙ্গা খাল হতে কাঠবুনিয়া বড় দোয়ানিয়া খাল হয়ে ভদ্রা নদী অভিমুখে খাল পুনর্খনন প্রকল্পের ভদ্রা নদীর নষ্ট হয়ে যাওয়া স্লুইজ গেটে সামনে মাটির হদিস পাওয়া যায়নি। নামমাত্র একটি বেড়িবাঁধ দেওয়া হয়েছে। যার দক্ষিণ পাশেও পানি। এর মাঝখানে রোপণ করা চারা এখন পানির নিচে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, বিলডাকাতিয়াসহ ডুমুরিয়া এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য দুটি বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। যার মধ্যে সাহস ডোলডাঙ্গা খাল হতে কাঠবুনিয়া বড় দোয়ানিয়া খাল হয়ে ভদ্রা নদী অভিমুখে খাল পুনর্খনন প্রকল্পে প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয় এক কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকা। খাতা কলমে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৯০ লাখ ৫৪ হাজার ৩৬১ টাকা। এ ছাড়া বিলডাকাতিয়ায় খনন করা খালের পাড়ে দেওয়া মাটির বেশিরভাগ স্থানে অস্তিস্ত নেই।
অপরদিকে ডুমুরিয়ায় ফুলতলা এলাকার সবচেযে বড় সমস্যা বিলডাকাতিয়ার জলাবদ্ধতা। বিলডাকাতিয়ার জলাবদ্ধতা নিরসনে নেওয়া হয় ‘কৃষ্ণনগর নিমতলা হতে বিলডাকাতিয়া হয়ে রংপুর সাড়াতলা পর্যন্ত খাল পুনর্খনন’ প্রকল্প। এর ব্যয় ধরা হয় এক কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার ২৩২ টাকা। এর মধ্যে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৮২ লাখ ২১ হাজার ৫৭৪ টাকা। রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিতে হয়েছে ৯৮ লাখ ৬০ হাজার ৬৫৮ টাকা।
ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আরিফ হোসেন জানান, ডুমুরিয়ার জলাবদ্ধতা নিরসনে দুটি খাল পুনর্খনন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে অব্যয়িত এক কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ১৯ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে আমার কিছু জানা নেই।
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবিতা সরকারের মোবাইল ফোনে কল করে এবং ক্ষুদেবার্তা দিয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো জবাব দেননি।
খুলনা জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ কর্মকর্তা মো. আব্দুল করিম বলেন, ডুমুরিয়া উপজেলার দুটি খাল খননের ক্ষেত্রে যে পরিমাণ কাজ হয়েছে সেটি সরেজমিনে গিয়ে দেখে সে অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের নির্দেশে অবশিষ্ট টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসন অব্যয়িত অর্থ কোষাগারে জমা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড খুলনা সার্কেলের প্রধান প্রকৌশলী ড আবুল বাসারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এই প্রকল্প তাদের নয়। তাদের খাল খননের কোনো টাকা ফেরত যায়নি।

মুহাম্মদ আবু তৈয়ব, খুলনা