জামালপুরে পৃথক নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন
জামালপুরে নারী ও শিশু নির্যাতনের পৃথক মামলায় তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও দুজনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ১-এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এসব রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) ফজলুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—সদর উপজেলার ফতেপুর গ্রামের ছানোয়ার হোসেন নাজমুল (৪২), বকশীগঞ্জ উপজেলার বিনন্দেরচর গ্রামের মোখলেছ (২০) ও একই এলাকার মমিন মিয়া (২৯)।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক বলেন, ২০১২ সালের ২২ মার্চ রাতে জেলা শহরের পশ্চিম নয়াপাড়া এলাকা থেকে ছানোয়ার হোসেন নাজমুল ও তার সহযোগী বুলবুলসহ কয়েকজন এক কলেজ ছাত্রীকে অপহরণ করেন। পরে ওই কলেজ ছাত্রীকে ছানোয়ার হোসেন নাজমুল তার নিজ বাড়িতে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। ঘটনার তিন দিন পর নির্যাতনের শিকার কলেজছাত্রী সদর থানায় মামলা করেন। এই অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে আদালত আজ ছানোয়ার হোসেন নাজমুলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করেন।
এ ছাড়া, ২০২৪ সালের ২৪ জুন গভীর রাতে বকশীগঞ্জ উপজেলার বিনন্দেরচর এলাকার নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে মিন্টু, মোখলেছ ও মমিন মিয়াসহ তাদের সহযোগীরা অপহরণ করেন। এই ঘটনায় ওই বছরের ২ জুলাই বকশীগঞ্জ থানায় মামলা করেন অপহরণের শিকার ছাত্রীর বাবা। এই মামলায় মোখলেছ ও মমিন মিয়া নামে দুই আসামিকে পৃথক দুটি ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে তিন লাখ টাকা করে জরিমানা করেন আদালত। একই ঘটনায় নাবালক আসামি মিন্টু মিয়াকে ১০ বছরের আটকাদেশ দেওয়া হয়।
অপরদিকে ২০২২ সালের ১৬ আগস্ট সদর উপজেলার ভাটি গজারিয়া এলাকার সাজমুল (২২) একই এলাকায় দাদা বাড়িতে বেড়াতে আসা এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশুকে মোবাইল দেখানোর কথা বলে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। ঘটনার পরের দিন শিশুটির বাবা বাদী হয়ে সদর থানায় ধর্ষণ মামলা করেন। মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামি সাজমুলকে ১০ বছরের আটকাদেশ দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, চারটি মামলায় মোট পাঁচ আসামি ছিল। এদের মধ্যে যাবজ্জীবন দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত ছানোয়ার হোসেন পলাতক। বাকি আসামিদের উপস্থিতিতেই রায় ঘোষণা করা হয়।

আসমাউল আসিফ, জামালপুর