আইনজীবীকে মারধর, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এজাহার গ্রহণের নির্দেশ
ঢাকা বারের আইনজীবীকে মারধরের ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এজাহার গ্রহণ করতে কোতোয়ালী থানাকে বলা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক এই আদেশ দেন।
ভুক্তভোগী আইনজীবী মো. মোহাইমিনুল ইসলাম খান (মেহেদী) বিষয়টি এনটিভি অনলাইনকে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আজ আদালতে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করা হলে বিচারক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের জন্য কোতোয়ালী থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
আইনজীবী মোহাইমিনুল বলেন, মামলায় আসামিরা হলেন—উম্মে হাফসা তন্বী, হুমায়ুন কবির, আশরাফুল আলম খান, মাহবুব আলম খান, শাহাদাত হোসেন, জিদান হাং, মো. মোহিবুল্লাহ, রায়হান, খালেদ সাইফুল্লা নাঈম, আরমান হোসেনসহ অজ্ঞাত আরও ২০/২৫ জন।
আরজি থেকে জানা গেছে, চলতি মাসের ২৫ আগস্ট মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী আইনজীবী ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ১ নং আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন। মামলা পরিচালনা শেষে এজলাস থেকে বের হয়ে তার চেম্বারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। চেম্বারে যাওয়ার সময় সিএমএম আদালতের গারদ খানার সামনে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ১ থেকে ৪ নং আসামিসহ আরও ৫/১০জন আসামি মিলে বাদীর (ভুক্তভোগী আইনজীবী) উপর হত্যার উদ্দেশ্যে সংঘবদ্ধ হামলা চালায় এবং ঝাঁপাইা পড়ে। এ সময় বাদীর মাথা, মুখমন্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলাপাতারিভাবে কিল, ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে লোকজনের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য বাদী ডাক-চিৎকার করলে আদালতের পথচারীসহ অন্য আইনজীবীরা তাকে বাঁচায়। পরবর্তীতে উপস্থিত কয়েকজনকে জনতা আটক করে ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে নিয়ে যান। সেসময় আসামিরা সুযোগ বুঝে সেখান থেকে পালিয়ে যান।
আরজিতে আরও বলা হয়েছে, এই ঘটনার পরে বিষয়টি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবীর ওপর হামলা আইনের শাসন ও বিচার ব্যবস্থার জন্য মারাত্মক হুমকি। এছাড়া, আদালত প্রাঙ্গণ হল ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার সর্বোচ্চ পবিত্র স্থান। তাই এই আদালতে পেশাগত দায়িত্ব পালনে আইনজীবীকে লাঞ্ছিত ও আহত করার ঘটনা কোন ব্যক্তি বা আইনজীবীর উপরে নয় বরং সমগ্র বিচার ব্যবস্থার এবং আইন শাসনের ওপর আঘাত করার শামিল বলে বাদী উল্লেখ করেন।
এর আগে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এনটিভি অনলাইনে ‘যৌতুকের মামলায় আইনজীবী ও আসামিকে বাদী পক্ষের মারধরের’ শিরোনামে নিউজ প্রকাশিত হয়।

আদালত প্রতিবেদক