প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে সরকারের পদক্ষেপ জানালেন নুরুল হক নুর
সরকার তিনটি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে প্রবাসীদের সমস্যার সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। আজ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে এ কথা জানান তিনি।
আজ একজন সংসদ সদস্য প্রবাসীদের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চান। তিনি বলেন, প্রবাসীরা বাংলাদেশের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর দেশের অর্থনীতি, তথা সামগ্রিক উন্নয়নে প্রবাসীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। প্রবাসীরা আমাদের অর্থনীতির প্রধান চালিকা শক্তি। তাদের প্রেরিত রেমিটেন্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সমৃদ্ধ করে। অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য আজ তারা নানা হয়রানি ও জটিলতার সম্মুখীন। এসব সমস্যা নিরসনে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা অতীব জরুরি। আমার এক নম্বর প্রশ্নই পাসপোর্ট জটিলতা নিরসন নিয়ে। এনআইডি/জন্মনিবন্ধনের তথ্যের সামান্য অসঙ্গতির কারণে পাসপোর্ট আটকে থাকায় প্রবাসীদের আকামা নবায়ন ও ব্যাংকিং সেবা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত তথ্য সংশোধনে দূতাবাসে বিশেষ ই-পাসপোর্ট সেল গঠন এবং আগের এমআরপি পাসপোর্টের ধারাবাহিকতা রেখে নবায়নের সুবিধা দেওয়া প্রয়োজন। বিদেশে অপহরণ ও নির্যাতন বন্ধ—সৌদি আরবে অসাধু চক্র কর্তৃক প্রবাসীদের অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় বন্ধে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। তিন. দালাল চক্র দমন ও আইনি সহায়তা—মধ্যপ্রাচ্যে প্রতারণার শিকার প্রবাসীদের ক্ষতিপূরণ এবং জড়িতদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রবাসীদের জন্য দেশের প্রতিটি আদালতে সরকারি আইনি সহায়তা প্রদান আবশ্যক। চার. দক্ষ জনশক্তি তৈরি—অদক্ষ শ্রমিকদের কারণে বিদেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজার সঙ্কুচিত হচ্ছে। তাই পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করে দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে হবে। পাঁচ. গামকা মেডিকেলে দুর্নীতি বন্ধ—গামকা মেডিকেল টেস্টে অনিয়ম ও ফিট-আনফিট বাণিজ্য বন্ধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। ছয়. বিএমইটি দুর্নীতি প্রতিরোধ—বিএমইটির কর্মকর্তা কর্মচারীদের দুর্নীতি বন্ধ করে সেবার মান স্বচ্ছ ও দ্রুত করতে হবে। সাত. অবৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা—লাইসেন্সবিহীন ও অনুমোদনবিহীন অসাধু এজেন্সির বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আট. অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ—অতিরিক্ত খরচ ছয় থেকে সাত লাখ টাকা কমিয়ে সরকারিভাবে নির্দিষ্ট ও যুক্তিসঙ্গত ফি নির্ধারণ করতে হবে, যাতে প্রবাসীদের মূলধন তুলতে বছরের পর বছর না লাগে। নয়. দূতাবাস থেকে সরাসরি সহায়তা—প্রতারিত ও বিপদে পড়া প্রবাসীদের দ্রুত আইনি ও প্রশাসনিক সাহায্য দিতে হবে। দূতাবাসগুলোকে আরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। ১০. অসুস্থ ও মৃত প্রবাসীদের সরকারি সহায়তা—অসুস্থ প্রবাসীদের চিকিৎসার ব্যয়ভার এবং মৃত প্রবাসীদের মরদেহ দ্রুত ও বিনামূল্যে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। এমতাবস্থায় প্রবাসীদের ন্যায্য অধিকার সুরক্ষা ও সমস্যা স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আমি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
এরপর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর পক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর সংক্ষিপ্ত জবাব দেন।
প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, গত বৃহস্পতিবার আমি ১০টি পয়েন্ট ধরে বিষয়গুলো নিয়ে উত্তর দিয়েছিলাম। তারপরও আমি আবার সংক্ষেপে বলছি, প্রবাসীরা বাংলাদেশের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। দেশের অর্থনীতি, তথা সামগ্রিক উন্নয়নে প্রবাসীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। দেশের কর্মক্ষম বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকার কাজ করছে। বিদেশ গমনেচ্ছুকদের দক্ষতাকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। অভিবাসন ব্যয় কমানোসহ প্রবাসীদের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিতে সরকারের অগ্রাধিকার রয়েছে। বর্তমানে ২৭টি দেশে ৩০টি শ্রমকল্যাণ উইং রয়েছে, যারা প্রবাসীদের সেবায় নিয়োজিত। ১১টি দেশের ১৩টি কনস্যুলেটে ২২টি ‘ল ফার্ম রয়েছে, যারা বিপদগ্রস্ত প্রবাসীদের যেকোনো সমস্যায় সহায়তা করে থাকে। সৌদির রিয়াদ, জেদ্দা ও ওমানে নারীদের সহায়তায় তিনটি সেইফ হোম রয়েছে।
বিএমইটির কার্ডধারীদের জন্য প্রবাসীদের কল্যাণ নিশ্চিতে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড কাজ করে থাকে। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড বিদেশে অসুস্থ প্রবাসীদের চিকিৎসা সহায়তাসহ দেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের মেধাবী সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি, প্রতিবন্ধীদের সহায়তা এবং বিদেশে মারা যাওয়া প্রবাসীদের লাশ দেশে আনায়নসহ প্রায় ১৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত সহায়তা করে থাকে। প্রতারণার বিষয়ে আমরা অভিযোগ পেলে সালিশি মধ্যস্থতাসহ প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তা দিয়ে থাকি।
প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, ইরান-ইসরাইল যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে সংযুক্ত আরব আমিরাতের চার হাজার বাংলাদেশির ভিসা বাতিল হয়েছে। যাদের অনেকের ওখানে ব্যবসা, দোকানপাট রয়েছে। বিষয়টি কূটনৈতিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সরকার তার নাগরিকদের সর্বোচ্চ সুবিধা দিতে চেষ্টা করবে। পাসপোর্টের বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দূতাবাসের বিষয়টি সাধারণত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত থাকে। সামগ্রিকভাবে তিনটি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে প্রবাসীদের সমস্যার সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক