শতবর্ষী নুর মোহাম্মদের ১০ বছরের কারাদণ্ড, অতঃপর কারাগারে
ডাকাতির পরে হত্যার অভিযোগে শতবর্ষী নুর মোহাম্মদ নামের এক ব্যক্তিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার পরে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার চতুর্থ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা ইয়াসমিন এই আদেশ দেন।
এদিন আসামি নুর মোহাম্মদ তার আইনজীবী ফয়সাল আহমেদের মাধ্যমে জামিনের আবেদন করেন। এরপরে বিচারক তা নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বিষয়টি এনটিভি অনলাইনকে জানিয়েছে আইনজীবী ফয়সাল আহমেদ।
নথি থেকে জানা গেছে, দুই যুগ আগে কিশোরগঞ্জে এক দোকানে ডাকাতির পর দুই ব্যক্তিকে খুনের দায়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় নুর মোহাম্মদকে। এরপরে তিনি পলাতক ছিলেন।
আরও জানা গেছে, ২০০০ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাতে কিশোরগঞ্জের বড় বাজার এলাকায় ফেরদৌসের দোকানে ডাকাতি করতে গিয়ে মোশাররফ হোসেন ও আ. কবিরকে হত্যা করা হয়। দোকানের সিন্দুক থেকে সাড়ে ১২ লাখ টাকা ও ১১০ ভরি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতেরা। এই ঘটনায় ফেরদৌস কিশোরগঞ্জ থানায় একটি মামলাটি করেন।
পরে ২০০২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন কিশোরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন। এসময় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। অভিযোগ গঠনের পরে মামলাটি স্পর্শকাতর বিধায় বিচারের জন্য কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
মামলার বিচার চলাকালীন সময়ে ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত। পরবর্তীতে ২০০৩ সালের ১৬ নভেম্বর ঢাকার চতুর্থ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল রায় দেন। রায়ে হাবিবুর রহমান হাবিব, শাহ আলম, মইন উদ্দিন ওরফে মঈন উদ্দিন, নুর মোহাম্মদ, আলম, দিলু ওরফে দেলোয়ার হোসেন, শুকুর আলী ও আলতু মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড এবং জসিম, সিদ্দিক, আমির চান, কবির ও বজলুর রহমানকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। অপরদিকে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। তবে মামলার বিচার চলাকালে হারিছ মিয়া মারা যান।
২০০৭ সালের ১৯ আগস্ট উচ্চ আদালত ডেথ রেফারেন্স শুনানি শেষে আলমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। তবে অন্যান্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন। সেসময় নুর মোহাম্মদের ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়।
নুর মোহাম্মদ সেসময় হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে আদালত থেকে জামিন নিয়ে তিনি পলাতক হন। এরপর থেকে তিনি পলাতক হিসেবে ছিলেন। আজ মঙ্গলবার আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে জামিন চান নুর মোহাম্মদ। তবে আদালত জামিন না দিয়ে কারাগার পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালত প্রতিবেদক