অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ সহজলভ্য করতে ৩ দাবি এমপি ডা. মোসলেহ উদ্দিনের
যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ বলেছেন, স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের গবেষণা অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে তালিকাভুক্ত অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মাত্র ২২ শতাংশ মজুত রয়েছে। তিনি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও মূল্য পুনর্নির্ধারণ এবং তা সহজলভ্য করতে তিনটি দাবি তুলে ধরেন।
আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এসব দাবি জানান মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ।
মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তালিকায় ৫২৩টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ রয়েছে। অধিকাংশ দেশই এই তালিকা অনুসরণ করে। বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে এক বছর ধরে তালিকাটি পর্যালোচনা করে ২৯৫টিতে নামিয়ে আনে। এরপর বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই তা আরও কমিয়ে ১১৭টিতে নামিয়ে আনা হয়েছে, যা বিশ্বে সর্বনিম্ন বলে দাবি করেন তিনি।
ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ আরও জানান, একদিকে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় ওষুধের মজুত মাত্র ২২ শতাংশ, অন্যদিকে জনগণকে বিপুল অর্থ নিজেদের পকেট থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে। গত অর্থবছরে ৩৫ হাজার কোটি টাকার স্বাস্থ্য বাজেটের মধ্যে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার ওষুধ কেনা হয়েছে। এর ৬২ শতাংশ সরবরাহ করেছে সরকারের মালিকানাধীন এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল)।
মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ অভিযোগ করে বলেন, ইডিসিএল বাজারদরের প্রায় দ্বিগুণ মূল্যে ওষুধ সরবরাহ করছে। কিন্তু বাজারমূল্যে সরবরাহ করা হলে জনগণ আরও প্রায় এক হাজার কোটি টাকার ওষুধ পেতে পারত।
ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ আরও বলেন, এর বাইরে দেশের মানুষ নিজেদের পকেটের টাকা দিয়ে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার ওষুধ কিনেছে, যা আনুপাতিক হারে বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যয়।
সরকারের ভর্তুকি ও প্রণোদনা খাতেও বিপুল অর্থ বরাদ্দ থাকার কথা তুলে ধরে মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ বলেন, এ খাতে প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা রয়েছে। কিন্তু জনগণের জন্য অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ নিশ্চিত করতে সেখানে কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি।
ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ সরকারের প্রতি তিন দফা পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। দাবিগুলো হলো—প্রথমত, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ৫২৩টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা অনুসরণ করে দেশের তালিকা পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, চলতি বছরের বর্ধিত বাজেট থেকে ভর্তুকি বা প্রণোদনার ব্যবস্থা করে জনগণের জন্য অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ সহজলভ্য করতে হবে। একই সঙ্গে ইডিসিএলের ওষুধ সরবরাহের মূল্য নিয়েও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক