লোডশেডিংয়ের সুযোগে বিদ্যুতের তার চুরির হিড়িক, ভোগান্তিতে গ্রাহকরা
লোডশেডিংয়ের সুযোগে পাবনা পৌর এলাকায় বাসা-বাড়ির বিদ্যুতের তার চুরির হিড়িক পড়েছে। গত এক মাসে অন্তত ৩০টি বাসাবাড়ির সংযোগের গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনা ঘটেছে। মধ্যরাত থেকে ভোররাতের মধ্যে চোরচক্র এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে সাধারণ মানুষ সেটিকে স্বাভাবিক লোডশেডিং ভেবে ঘুমিয়ে থাকেন। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সংঘবদ্ধ চোরচক্রের সদস্যরা বাসাবাড়ির মিটারের সঙ্গে সংযুক্ত তামার তার কেটে নিয়ে চম্পট দেয়। সকালে ঘুম থেকে উঠে আশপাশের বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলেও নিজেরা অন্ধকারে থাকার পর চুরির বিষয়টি জানতে পারেন ভুক্তভোগীরা।
পৌর এলাকার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, চক্রের সদস্যরা দিনের বেলা সাধারণ মানুষের ছদ্মবেশে পাড়া-মহল্লায় ঘুরে চুরির স্থান ও সুযোগের ছক আঁকে। পরে গভীর রাতে ঝটিকা অভিযানে সংযোগ কেটে নিয়ে যায়। মূলত অ্যালুমিনিয়ামের চেয়ে তামার তারকে চোরচক্র বেশি টার্গেট করছে। চুরি করা এসব তার পুড়িয়ে তামা বের করে অসাধু চক্রের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। তামা চুরির পাশাপাশি সুযোগ বুঝে বাসাবাড়ির অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্রও হাতিয়ে নিচ্ছে চক্রটি।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন এলাকা থেকে বাসাবাড়ির বিদ্যুতের তার চুরির লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। পুলিশ এরই মধ্যে অভিযান চালিয়ে তার চুরির সঙ্গে জড়িত ৩ জনকে আটক করেছে।
ওসি আরও জানান, চোরচক্রকে ধরতে পুলিশের নৈশটহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে চক্রের মূলহোতাসহ জড়িত সবাইকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন পুলিশের এই কর্মকর্তা। একই সঙ্গে রাতের বেলায় গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে টহল ও পুলিশের তৎপরতা আরও বাড়ানোর জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

এ বি এম ফজলুর রহমান, পাবনা