পাহাড়ি ঢলে ফটিকছড়িতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির রামগড় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েক ঘণ্টার টানা ভারি বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার দাঁতমারা ও বাগানবাজার এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ আমন ধানক্ষেত, বীজতলা ও গ্রামীণ সড়ক। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ।
গতকাল বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে উপজেলার বাগানবাজার ও দাঁতমারা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুই ইউনিয়নের ধুলিয়াছড়ি, গজারিয়া, বড়বিল, রত্নপুর, নতুনপাড়া, হলুদিয়া, লালমাই, চিকনছড়া ও নতুনবাজারসহ বেশ কয়েকটি নিচু এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ভোরের দিকে শুরু হওয়া ভারি বৃষ্টির পর খাগড়াছড়ির পাহাড়ি অঞ্চল থেকে তীব্র বেগে ঢল নামতে শুরু করে। সীমান্ত এলাকার পাহাড়ি ছড়া ও খালগুলোর পানি ধারণক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় মুহূর্তের মধ্যে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে।
আকস্মিক বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষিখাত। সবেমাত্র রোপণ করা বিঘার পর বিঘা আমন ধানক্ষেত ও বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে থাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। ক্ষতি হয়েছে সবজি ক্ষেতেও। পানিতে ডুবে গেছে মাছের প্রকল্প।
বাগানবাজার ইউনিয়নের মৎস্যচাষী সেলিম ও মোতালেব বলেন, তাদের মাছের প্রকল্প থেকে কয়েক লাখ টাকার মাছ পানিতে ভেসে গেছে। ঋণ নিয়ে মাছ চাষ শুরু করলেও মাছ হারিয়ে এখন তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
দাঁতমারা ইউনিয়নের কৃষক জাফর বলেন, আমার পেঁপে বাগানে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। পেঁপে গাছ পড়ে গেছে। আমি ছাড়াও অনেক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
বাগানবাজার ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন বলেন, হলুদিয়া এলাকায় অনেক সড়ক ভেঙে গেছে। তলিয়ে গেছে কৃষিজমি। এছাড়া পুকুর ডুবে মাছ ভেসে গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক বলেন, সকালের কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে পেঁপে বাগান, ধানক্ষেত ও সবজি ক্ষেতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, এই পানি মূলত খাগড়াছড়ি থেকে এসেছে। আকস্মিক এই বন্যায় এলাকার রাস্তাঘাট ও কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। আপাতত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

কামরুল সবুজ, চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলা (হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও রাউজান)