ফাটলধরা ছাদে বাঁশের খুঁটি দিয়ে চলছে পাঠদান
ছাদজুড়ে বড় বড় ফাটল। ফাটলধরা বিম ও পিলার বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঠেকানো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই প্রতিদিন পাঠ নিতে হচ্ছে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ২৪নং দক্ষিণ পাল্টাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১২৬ শিক্ষার্থীকে।
দীর্ঘদিন ধরে এই জরাজীর্ণ ভবনেই চলছে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হলেও বিকল্প শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই সেখানেই পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে শিক্ষদের। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় অনেক অভিভাবক সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতেও ভয় পাচ্ছেন।
১৯৯৩-৯৪ অর্থবছরে নির্মিত ভবনটিতে রয়েছে তিনটি শ্রেণিকক্ষ। এর মধ্যে দুটি কক্ষের ছাদে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। ভবনের বিভিন্ন অংশ প্রায় ২০টি বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারীদের অফিস কক্ষের অবস্থাও নাজুক। বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ পাঁচজন শিক্ষক ও একজন অফিস সহায়ক কর্মরত আছেন।
এ বিষয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নাঈম বলে, ‘আমার মা-বাবা এই স্কুলে আসতে দিতে চান না। কারণ, স্কুলের ছাদের পলেস্তরা ভেঙে পড়ছে। সবাই আসতে ভয় পায়। তবুও আমরা পড়াশোনাকে ভালোবাসি বলেই স্কুলে আসি।’
চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলে, ‘আমাদের বিদ্যালয়ের অবস্থা খুবই খারাপ। বাবা-মা স্কুলে আসতে দিতে চান না। তবুও পড়াশোনা করার জন্য আসি। সবসময় আতঙ্কের মধ্যে পড়াশোনা করছি।’
সহকারী শিক্ষক হারুনুর রশিদ বলেন, ‘বিদ্যালয়ের ভবনটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাই আতঙ্কের মধ্যে থাকি। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে অনেক অভিভাবক সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে ভয় পান। এতে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমছে এবং স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আহসান হাবীব লাবু বলেন, ‘আমি ২০১৭ সাল থেকে এই বিদ্যালয়ের ভবনের জন্য আবেদন করে যাচ্ছি। কর্তৃপক্ষ যখন যেভাবে চেয়েছে সেভাবেই কাগজপত্র জমা দিয়েছি।’
বীরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহজিদা হক বলেন, ‘বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা দেখা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ইতোমধ্যে নতুন ভবনের চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।’

মাসুদ রানা, দিনাজপুর (বীরগঞ্জ-খানসামা)