উন্মুক্ত মাঠ-পার্কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে ডিএনসিসি : প্রশাসক
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকার সব পার্ক ও খেলার মাঠ দখলমুক্ত, সংস্কার ও পরিচ্ছন্ন করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিরপুর-১৩ নম্বর এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে শিশুদের খেলার মাঠ, শহীদ মিনার ও পার্ক উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় দ্রুত সময়ের মধ্যে মাঠ ও পার্কটি সংস্কার করে এলাকাবাসীর জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন সব পার্ক ও খেলার মাঠ দখলমুক্ত করে উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে এসব মাঠ ও পার্ক সংস্কার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং ব্যবহার উপযোগী করে তোলা হচ্ছে।
তিনি জানান, মাঠ ও পার্কটির সংরক্ষণ এবং দেখাশোনার জন্য আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হবে। এছাড়াও আগামী দেড় মাসের মধ্যে এগুলো সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত পার্কটি এলাকাবাসীর জন্য খোলা থাকবে।
শফিকুল ইসলাম খান বলেন, শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার পাশাপাশি লেখাপড়ার প্রতিও মনোযোগী হতে হবে। তারা নির্ধারিত সময়ে খেলাধুলা করবে এবং সন্ধ্যার পর পড়াশোনার জন্য ঘরে ফিরে যাবে।
তিনি বলেন, মাঠ ও পার্কে যাতে কোনো ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ, মাদকাসক্তদের আড্ডা কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সেদিকে এলাকার মুরুব্বি ও স্থানীয় জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে। এ বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শফিকুল ইসলাম জানান, মিরপুর-কাফরুল এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে ২২ নম্বর টেকী খাল স্থায়ীভাবে উদ্ধার এবং খালের দুই পাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণসহ নৌযান চলাচল উপযোগী করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মেট্রোরেলের পিলারে অবৈধ পোস্টার অপসারণে দেওয়া ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটামের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর দ্রুত সেখানে গ্রাফিতি আর্ট ও সৌন্দর্যবর্ধনমূলক চিত্রায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখা হবে। অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকে রাজনৈতিক বা দলীয় পরিচয়ের কারণে ছাড় দেওয়া হবে না।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে পার্ক, খেলার মাঠ, মসজিদ-মাদ্রাসাসহ নাগরিক সুবিধা উন্নয়নে কাজ করা হবে।
অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে প্রধান প্রকৌশলী, স্থানীয় থানা পুলিশের কর্মকর্তাসহ এলাকার সর্বস্তরের জনগণ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)