নারায়ণগঞ্জে পৃথক তিন বিস্ফোরণে দগ্ধ ৬, আহত ৬
নারায়ণগঞ্জের সদর, ফতুল্লা ও সোনারগাঁয়ে পৃথক তিনটি বিস্ফোরণের ঘটনায় ছয়জন দগ্ধ এবং ছয়জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরীতে রাসায়নিক দাহে দুজন এবং সোনারগাঁয়ের কাঁচপুরে গ্যাস বিস্ফোরণে চারজন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে, সদর উপজেলার দেওভোগে বদ্ধ রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণে দেয়াল ধসে দুই শিশুসহ ছয়জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত থেকে রোববার (১১ অক্টোবর) ভোর পর্যন্ত এসব দুর্ঘটনা ঘটে। নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরিফিন ঘটনাগুলোর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, রোববার ভোরে নগরীর পশ্চিম দেওভোগ আখড়ার মোড় এলাকায় দীঘির উত্তর পাড়ে একটি তিনতলা ভবনের নিচতলার বব্ধ রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণ ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক স্পার্ক থেকে এ বিস্ফোরণ হয়েছে। এতে ভবনটির নিচতলার দেয়াল ধসে পাশের একটি কাঁচা ভবনের ওপর পড়ে। বিস্ফোরণে দুটি ভবনের আসবাবপত্র, ফ্রিজ ও আলমারিসহ বিভিন্ন জিনিস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে আগুন দ্রুত নিভে যাওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের আগুন নেভাতে হয়নি।
এ ঘটনায় তিনতলা ভবনের বাসিন্দা শিখা রানী (৫৫), মনা আচার্য (৬০) ও তার শতবর্ষী মা আহত হন। পাশের কাঁচা ভবনের পুষ্পিতা (১০), নিপা (৩৫) ও ঘরনীতাই (৬) সামান্য আহত হন। স্থানীয়রা আহত তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। অন্য তিনজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে নিজ নিজ বাসায় রয়েছেন।
অন্যদিকে, শনিবার রাতে ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরীতে রাসায়নিক দাহের ঘটনায় আনোয়ার (৪০) ও সামসুল (৩০) নামে দুজন গুরুতর দগ্ধ হন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আনোয়ারের শরীরের ৫৪ শতাংশ এবং সামসুলের শরীরের ৫৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। সামসুলের শ্বাসনালিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে, শনিবার দিনগত রাত ২টার দিকে সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুরের মতিন খান প্লট এলাকার লোহার গেটসংলগ্ন হাজী নুরুল ইসলাম ভিলার ছয়তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় গ্যাস বিস্ফোরণে চারজন দগ্ধ হন। তারা হলেন- ভবনের ব্যবস্থাপক শরীফ মিয়া (৩৪), নুরুল ইসলামের স্ত্রী রোজিনা (৩০), তার শ্যালক রিয়াজ (২২) ও ভাড়াটিয়া রনি (১৯)।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শরীফ মিয়ার শরীরের ৪০ শতাংশ, রোজিনার ৬০ শতাংশ, রিয়াজের ৪০ শতাংশ এবং রনির ৭০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। শরীফ মিয়া ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার গড়া এলাকার আলাউদ্দিনের ছেলে। রিয়াজ কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার কালামপুর এলাকার বসু মিয়ার ছেলে। তারা বর্তমানে কাঁচপুর এলাকায় বসবাস করেন।
দগ্ধ শরীফ মিয়ার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভবনটিতে গ্যাস লিকেজ থেকে হঠাৎ বিকট শব্দে আগুন ধরে যায়। এতে চারজন গুরুতর দগ্ধ হন। পরে স্বজনেরা তাদের উদ্ধার করে ভোর ৪টার মধ্যে পর্যায়ক্রমে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যান।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সুলতান মাহমুদ সিকদার বলেন, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও সোনারগাঁয়ের পৃথক ঘটনায় দগ্ধ ছয়জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে ফতুল্লার ঘটনায় আনোয়ারের শরীরের ৫৪ শতাংশ এবং সামসুলের ৫৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। সামসুলের শ্বাসনালিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, সোনারগাঁয়ের ঘটনায় দগ্ধ চারজনের শরীরের ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত পুড়ে গেছে। তাদের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

কামরুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ (সদর-সোনারগাঁ-বন্দর)