কুষ্টিয়ায় আখড়াবাড়িতে লালন উৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা
বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় লালন আখড়াবাড়িতে চলা তিন দিনব্যাপী লালন উৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে।
আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আখড়াবাড়ির মূল মঞ্চে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত লালন উৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফকির লালন সাঁই একজন আধ্যাত্মিক সেবক ছিলেন। এই অঞ্চলেই তাঁর বাস ছিল, তিনি ১১৫ বছর জীবন পেয়েছিলেন। কেউ বলেন, তাঁর জন্মস্থান কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায়, কেউ বলেন বৃহত্তর যশোরের হরিশপুরে, কেউ বা ফুলবাড়ীর কথা বলেন। এটি আসলে আলোচনার বিষয় না, আলোচনার বিষয় হচ্ছে, তিনি এই অঞ্চলের মানুষ, তিনি এই দেশের মানুষ।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, লালন শাহ মানবপ্রেমে বিশ্বাস করতেন, তিনি অসাম্প্রদায়িক ছিলেন। জাত-পাতের প্রভেদ তিনি অস্বীকার করতেন, যে সময় তিনি অস্বীকার করতেন, সেই সময়ে অবশ্য সমাজ কিন্তু জাতপাত ধনী-গরিব বিষয়গুলো নিয়ে চূড়ান্তভাবে বিভক্ত ছিল।
শেষ দিনের আলোচনা সভায় মূখ্য আলোচক ছিলেন প্রাবন্ধিক অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমী।
জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন হাসানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ মেহেদি আহমেদ রুমী, পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য ব্যারিষ্টার রাগীব রউফ চৌধুরী, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৗশলী জাকির হোসেন সরকার প্রমুখ।
আলোচনা সভা শেষে লালন একাডেমির শিল্পী ও দেশবরেণ্য লালন শিল্পীরা লালন শাহের আধ্যাত্মিক গান পরিবেশন করেন।
১৩৬ বছর আগে ১২৯৭ বঙ্গাব্দের পহেলা কার্তিক কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে মারা যান ফকির লালন শাহ। তার মৃত্যুর পর থেকে গুরু পরম্পরায় তার মানবদর্শন ধরে রেখেছেন তার অনুসারীরা। এরই ধারাবাহিকতায় এবারও কালিগঙ্গা নদীর তীরের আখড়াবাড়িতে বসে দেশের বৃহত্তম সাধুর হাট। ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের এই আধ্যাত্মিক বাণীর স্লোগানে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় লালন একাডেমি লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে এই লালন উৎসবের আয়োজন করে।

সাবিনা ইয়াসমিন শ্যামলী, কুষ্টিয়া