অতিথি পাখির আগমনে নতুন রূপে সেজেছে চলনবিল
শীতের শুরুতেই পাবনা, নাটোর ও সিরাজগঞ্জজুড়ে বিস্তৃত চলনবিলে আসতে শুরু করেছে নানা প্রজাতির অতিথি পাখি। ভোরের আলো ফুটতেই ঝাঁকে ঝাঁকে পাখির ওড়াউড়ি, কিচিরমিচির আর জলাশয়ে মাছ শিকারের দৃশ্য বিলজুড়ে তৈরি করেছে মনোরম পরিবেশ। সন্ধ্যা নামলে পাখিরা দল বেঁধে গাছের ডালে আশ্রয় নেয়। অতিথি পাখির এই আনাগোনায় মুখর হয়ে উঠেছে চলনবিল।
পাবনা, নাটোর ও সিরাজগঞ্জ জেলার ১২টি উপজেলা নিয়ে বিস্তৃত চলনবিল। বিশেষ করে পাবনার চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এই বিলের অংশ। নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের দুই পাশে এবং সিংড়া-বারুহাস-তাড়াশ সড়কের বিভিন্ন স্থানে দেখা মিলছে সাদা বক, পানকৌড়ি, শামুকখোল, বালিহাঁস ও ডাহুকসহ নানা প্রজাতির পাখির। বিলের অল্প পানিতে পাখিদের মাছ শিকারের দৃশ্য দেখতে ভিড় করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রকৃতিপ্রেমীরা।
স্থানীয় কৃষক সহিদুল ইসলাম ও বাবুল হোসেন বলেন, চলনবিলে সাদা বক কৃষকের বন্ধু হিসেবে পরিচিত। এসব পাখি ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে কৃষকের উপকার করে। জমিতে হালচাষের সময়ও বক দল বেঁধে পেছনে পেছনে ঘুরে পোকামাকড় খায়। পাখির আনাগোনায় বিলের সৌন্দর্যও বেড়ে যায়। তারা বলেন, পাখি শিকার ঠেকাতে স্থানীয়রা সতর্ক থাকেন।
পরিবেশবাদী সংগঠন চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর শীতের শুরুতে খাবারের সন্ধানে চলনবিলে বক, বালিহাঁস, পানকৌড়ি ও শামুকখোলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি আসে। তবে কিছু অসাধু শিকারি ফাঁদ পেতে এসব পাখি শিকার করে। পাখি রক্ষায় তাদের সংগঠন ২০১২ সাল থেকে কাজ করছে। পাখি শিকারের বিষয়ে প্রশাসনকে জানানোসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুসা নাসের চৌধুরী বলেন, চলনবিল জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ একটি এলাকা। এখানকার পাখি ও পরিবেশ রক্ষায় জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সম্প্রতি সংগঠনটির সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে আটজন পাখি শিকারিকে জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া পাখি শিকারের জন্য তৈরি ফাঁদ ও বিশেষ স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে।
মুসা নাসের চৌধুরী আরও বলেন, চলনবিলের পাখি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। পাখি শিকার বন্ধে স্থানীয়দের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

এ বি এম ফজলুর রহমান, পাবনা