ভেজাল দুধের কারখানায় অভিযান, ২৭০০ কেজি জেলি জব্দ
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার একটি বসতবাড়িতে গড়ে ওঠা অবৈধ ভেজাল দুধ তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে প্রায় দুই হাজার ৭০০ কেজি ক্ষতিকর জেলি, তেল ও বিপুল পরিমাণ ভেজাল দুধ জব্দ করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ অপরাধে জড়িত মূলহোতাসহ দুইজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
আজ শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে উপজেলার ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের কৈডাঙ্গা নতুনপাড়া গ্রামের অভিযুক্ত আবুল বাশারের নিজ বাড়িতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন—কৈডাঙ্গা নতুনপাড়া গ্রামের ভেজাল কারখানার মালিক মো. আবুল বাশার এবং তার সহযোগী একই গ্রামের মো. সবুজ। ভ্রাম্যমাণ আদালত আবুল বাশারকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং সহযোগী সবুজকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। অনাদায়ে সবুজকে আরও ৩ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া মমতাজ ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহানের নেতৃত্বে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), উপজেলা প্রশাসন এবং ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশের সমন্বয়ে এই যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, অভিযুক্ত আবুল বাশার দীর্ঘদিন ধরে নিজ বাড়িতে বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান মিশিয়ে ভেজাল দুধ তৈরি করে তা বাজারে সরবরাহ করে আসছিলেন।
অভিযানের সময় বসতবাড়ির ভেতর মজুত রাখা ৩৬ ড্রাম জেলি উদ্ধার করা হয়, যার মোট ওজন প্রায় দুই হাজার ৭০০ কেজি। এ ছাড়া দুধ তৈরিতে ব্যবহৃত ২০০ লিটার ক্ষতিকর তেল এবং ৩২০ লিটার তৈরি ভেজাল দুধ জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত এসব উপকরণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় আট লাখ টাকা। পরে জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ এসব ভেজাল সামগ্রী ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া মমতাজ জানান, দুধের মতো একটি অপরিহার্য পুষ্টিকর খাবারে ক্ষতিকর জেলি ও রাসায়নিক মিশিয়ে তা বাজারজাত করা অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সত্যতা পেয়ে অভিযান চালিয়ে কারখানাটি গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং জড়িতদের সাজা দেওয়া হয়েছে। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ভেজাল খাদ্য উৎপাদন ও কারবারিদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

আপন ইসলাম, পাবনা (চাটমোহর-ভাঙ্গুরা)