বেনজীরের বিরুদ্ধে আরও ১২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ
অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আরও ১২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন আদালত। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে এ সাক্ষ্য গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
দুদকের পক্ষের আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আসামি পলাতক থাকায় তার পক্ষে জেরা করা সম্ভব হয়নি। তাদের জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত আগামী ৫ নভেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
সালাম আরও বলেন, আজ যারা সাক্ষী দিয়েছেন তারা হলেন- কমিউনিটি ব্যাংকের হেড অফিসের এফএভিপি মোহাম্মদ শাহরিয়ার চৌধুরী, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান, প্রাইম টাওয়ারের এসইভিপি ও হেড অব. আইসিসিডি মোহাম্মদ আব্দুর রহমান, এনআরবি ব্যাংকের মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাস অর্থায়ন প্রতিরোধ বিভাগের এসএডিপি উদয় সংকর চাকী, ইস্টার্ন ব্যাংকের অফিসার মো. ফয়সাল ভূঞা পিয়াস, দুর্নীতি দমন কমিশনের অফিস সহায়ক মো. রফিকুল ইসলাম, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফয়সাল কবির, গণপূর্ত ই/এম বিভাগের স্টাফ অফিসার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ তরিকুল আলম, গণপূর্ত ই/এম বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাজেদুল ইসলাম, গণপূর্ত ই/এম উপ-বিভাগের উপ-প্রকৌশলী নাহিদ হাসান লিজন এবং ঢাকা বোট ক্লাবের সাবেক জয়েন্ট সেক্রেটারি ক্যাপ্টেন (অব) মেহেদী হাসান তুষার এবং এসপিবিএন-এর ডিআইজি শোয়েব রিয়াজ আলম।
এজাহারে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদকের উপ-পরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে বেনজীরের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগপত্র দেন হাফিজুল ইসলাম।
মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, বেনজীর আহমেদ তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ছয় কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর সম্পদ ও পাঁচ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দেন। তবে তদন্তে তার নামে সাত কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর এবং আট কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। এতে মোট ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের প্রমাণ মিলেছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে পাওয়া গেছে ছয় কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা। ব্যয় বাদে নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় চার কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। ফলে বেনজীর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১১ কোটি চার লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার সম্পদ অর্জন করেন। তিনি এসব অর্থের অবৈধ উৎস, প্রকৃতি ও মালিকানা গোপন করে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও যৌথ মূলধনী প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছেন।

আদালত প্রতিবেদক