জাবি ছাত্রের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তরুণীর
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪১তম ব্যাচের বাংলা বিভাগের স্নাতকোত্তর পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে তাঁর শাস্তি দাবি করেছেন এক তরুণী।
অভিযোগ ওঠা শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন। অবশ্য তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
গতকাল বুধবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর অভিযোগপত্র জমা দেন ওই তরুণী।
অভিযোগপত্রে তরুণী জানান, ২০১২ সালের ১০ অক্টোবর অভিযুক্ত ছাত্রের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১৬ সালের ২৪ জানুয়ারি জাবি ক্যাম্পাসে বেড়াতে গেলে ওই ছাত্র তাঁর সঙ্গে জোর করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। এরপর তিনি গর্ভবতী হয়ে পড়লে আবার তাঁকে ক্যাম্পাসে ডেকে এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. রেজওয়ান ও ডা. তাসলিমা আক্তারের মাধ্যমে গর্ভপাত করানো হয়। এর পর থেকে প্রতিনিয়ত শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করা হতো বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। এমনকি এসব কথা কাউকে বললে ছাত্র তাঁর আরো ক্ষতি করার হুমকি দেন বলে জানান ওই তরুণী।
অভিযোগকারী তরুণী অভিযোগপত্রে নিজেকে প্রাইম ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের ছাত্রী হিসেবে উল্লেখ করলেও প্রাইম ইউনিভার্সিটিতে তাঁর পড়ালেখা গত বছরই শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন এই প্রতিবেদককে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে ওই তরুণী এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘আমার জন্য ডাব পেড়েছে জানিয়ে আমাকে ডাব খেতে জাবি ক্যাম্পাসে আসতে বলে সে। ক্যাম্পাসে আসলে গলায় চাকু ধরে জোরপূর্বক জংলার ভেতর নিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করে সে। জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক করার পর আমাকে বিয়ে করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সে। এর পর থেকে প্রতিনিয়ত শারীরিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করে আমাকে। এমআর করার কারণে আমার জরায়ুতে ইনফেকশন হয়ে যায়। সে যে আমাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকি দিয়েছিল এসব রেকর্ডিং আছে আমার কাছে। এমনকি শারীরিক সম্পর্ক করার ভিডিও-ও আমার কাছে আছে। সে প্রতিনিয়ত আমাকে বাধ্য করে শারীরিক সম্পর্ক করত। এটা যেন অস্বীকার করতে না পারে সে জন্য একবার ভিডিও করে রেখেছিলাম আমি। এখন সে বলে, সে নাকি আমাকে চেনেই না।’
তবে অভিযোগকারী তরুণী অভিযোগপত্রে ২০১৬ সালে শারীরিক সম্পর্ক হওয়ার কথা বললেও এনটিভি অনলাইনকে জানান, আড়াই-তিন বছর আগে ওই ছাত্রের সঙ্গে তাঁর প্রথম শারীরিক সম্পর্ক হয়। তখন একবার এমআর করানো হয় এবং ২০১৬ সালে আবার এমআর করানো হয়। ডা. রেজোয়ান ও ডা. তাসলিমার মাধ্যমে গর্ভপাত করানো হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করলেও এ প্রতিবেদককে বলেন, তিনি এ ডাক্তারদের কাছে যাননি। অভিযুক্ত ছাত্রই ডাক্তারদের সঙ্গে এ ব্যাপারে পরামর্শ করেছিলেন।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. রেজোয়ান বলেন, ‘আমার যতটুকু মনে পড়ে আড়াই-তিন বছর আগে ছেলেটা আমার কাছে এসেছিল। সে বলেছিল সে বিবাহিত, স্ত্রী গর্ভবতী হয়ে পড়েছে। ছাত্র অবস্থা হওয়ায় এটা তার জন্য সমস্যাজনক। এমআর করা যায় কীভাবে তা জানতে চেয়েছিল। আমি তখন তাকে এ সম্পর্কে পরামর্শ দিয়েছিলাম। আমাদের এখানে তো এমআর, গর্ভপাত করানো হয় না।’
অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত জাবি ছাত্র। তিনি এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘তাকে (অভিযোগকারী তরুণী) আমি চিনি, তার সাথে আমার প্রেমের সম্পর্ক ছিল একসময়, তিন বছর আগে। কিন্তু শারীরিক সম্পর্ক বা এমআর, গর্ভপাতের মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। সে আমাকে ফাঁদে ফেলার জন্য এখন এসব করছে। বিয়ে করতে বাধ্য করার জন্য।’
ডা. রেজোয়ানের সঙ্গে গর্ভপাত বা এমআরের ব্যাপারে কোনো কথা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ তার সাথে এমআরের বিষয়ে কথা হয়েছিল।’
শারীরিক সম্পর্ক না হয়ে থাকলে এ রকম পরামর্শের প্রয়োজন পড়ল কেন এমন প্রশ্নের জবাবে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি এই ছাত্র। তিনি বলেন, ‘রেজোয়ান ভাইয়ের সঙ্গে এমনিতে এটা আলোচনা করেছিলাম অনেক আগে। কিন্তু শারীরিক সম্পর্ক হয় নাই।’
কিছুক্ষণ পর অভিযুক্ত ওই ছাত্র ফোন করে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘এ ব্যাপারে প্রভোস্ট এবং প্রক্টর স্যারের সাথে আমার কথা হয়েছে। মেয়ের বাড়ি আমাদের এলাকায়ই। এলাকায় পারিবারিকভাবে এটা মীমাংসা করা হবে। এলাকার চেয়ারম্যান-মেম্বারের সাথে কথা হয়েছে আমার, এলাকায় এটা নিয়ে বসা হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা বলেন, ‘আবেদনটা ভিসি বরাবর করা। আমি তো এ ব্যাপারে বলতে পারব না। এ ব্যাপারে ভিসি স্যার সিদ্ধান্ত নেবেন, এটা কি নিপীড়নবিরোধী সেলে দেওয়া হবে নাকি অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তবে মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের সঙ্গে।
জানতে চাইলে উপাচার্যের সচিব আমজাদ হোসাইন বলেন, ‘এটা ভিসির নলেজে আছে। আজকে সকালের ডাকে এটা ভিসির কাছে পাঠিয়েছি। ভিসির কাছে এটা পৌঁছানোর কথা।’

জাবি সংবাদদাতা