রাবি শিক্ষক হত্যা : শিক্ষকদের আন্দোলন অব্যাহত
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অধ্যাপক ড. এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যার ১৬তম দিনেও বিচারের দাবিতে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও মিছিল করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এদিকে গতকাল শনিবার থেকে গ্রীষ্মকালীন ছুটি চলছে, কিন্তু এই ছুটিতেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
আজ রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে শিক্ষক সমিতির আয়োজনে সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মানববন্ধন হয়। মানববন্ধন শেষে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একটি মৌন মিছিল ক্যাম্পাসে প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ শেষে মুকুল প্রতিবাদ ও সংহতি মঞ্চে গিয়ে সমাবেশ করে।
মানববন্ধনে শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহা বলেন, ‘একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হত্যার ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো সরকারের ঊর্ধ্বতন কেউ আমাদের সঙ্গে দেখা করতে আসেনি। কেন? আমরা কি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এতই নগণ্য। আর আমরা এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মানববন্ধন, মিছিল, অবস্থান ধর্মঘট পালন করছি, আর এজন্য কি আমাদেরকে হত্যা করা হবে? আমরা চাই, যারাই এ নৃশংস ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার। আমাদের একটাই দাবি, বিচার চাই।’
এ সময় ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. চিত্তরঞ্জন মিশ্র বলেন, ‘আমরা শিক্ষক রেজাউল হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যেতে চাই। আমরা রাজশাহী নগরের সব নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে সমন্বিত আন্দোলন করব। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের এখানে আসতে চেয়েছেন আমরা চাই তাঁর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছেও আমাদের এই দাবি জানাতে। আমরা ছুটির পরে ছাত্র-শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের মতো এই ক্যাম্পাসে আবারো আন্দোলন গড়ে তুলব। যাতে এই শিক্ষক হত্যাকাণ্ডের সংস্কৃতি বন্ধ হয়।’
শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইসমাইল হোসেনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মো. শহীদুল্লাহ্, সাধারণ সস্পাদক ড. শাহ্ আজম শান্তনু ও ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগের দিলীপ কুমার সরকার।
মানববন্ধন থেকে আরো জানানো হয় পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এ মানববন্ধন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

রাবি সংবাদদাতা