জাবির সাংবাদিকতা বিভাগে সিলেবাস নিয়ে ‘অনিয়ম’
নিয়মবহির্ভূতভাবে সিলেবাস ছাড়াই ২০১৫-১৬ স্নাতক সম্মান শ্রেণির (৪৫তম ব্যাচ) শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ উঠেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের বিরুদ্ধে।
সূত্র জানায়, ২০১১ সালে বিভাগটির শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল সভায় ২০১৫ সাল পর্যন্ত চার বছর মেয়াদে একটি সিলেবাস অনুমোদন দেওয়া হয়। পুরোনো সিলেবাসের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও নতুন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো নতুন সিলেবাস অনুমোদন করা হয়নি।
অথচ নতুন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আগমনের প্রায় দুই মাস হতে চলেছে। বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক উজ্জ্বল কুমার মণ্ডল নিজ ক্ষমতাবলে পুরোনো সিলেবাসেরই কিছু অংশ সংশোধন করে নতুন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যলয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ আলী (শিক্ষা) বলেন, ‘এটাকে একটি চৌর্যবৃত্তি বলা যেতে পারে। তবে এটা নির্ভর করে সেই শিক্ষকের ওপর যিনি এই নিয়মবহির্ভূত কাজটি করেছেন। তবে এটা দেখার বিষয় যে, এটি তাঁর শিক্ষার্থীদের উপকারের জন্য করেছেন, নাকি শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে ফেলার জন্য করেছেন।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী সিলেবাস প্রণয়নের জন্য প্রথমে ‘কমিটি অব কোর্সেস’-এর মিটিংয়ে কোন কোন বিষয় সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত হবে তা প্রস্তাব করা হয়। একইসঙ্গে বিভাগের সব শিক্ষক ও অনুষদ থেকে ছয়জন অধ্যাপককে নিয়ে একটি কমিটি গঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে ওই কমিটি সিলেবাস নির্ধারণ করে দেয়; যা অনুষদ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলে উত্থাপন করা হয়। সেখান থেকে সিলেবাস যোজন-বিয়োজন করে সিন্ডিকেটে পাঠানো হয়। সিন্ডিকেটে সেটি আলোচনা করে পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস হিসেবে অনুমোদন দেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলা ও মানবিকী অনুষদের একাধিক শিক্ষক জানান, বিভাগীয় সভাপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম-নীতির কোনো তোয়াক্কা না করে স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে একটি সিলেবাস নিজ ক্ষমতা বলে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন। এর কোনো বৈধতা নেই।
এ বিষয়ে বিভাগীয় সভাপতি সহকারী অধ্যাপক উজ্জ্বল কুমার মণ্ডল এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘গত ৭ মে কমিটি অব কোর্সেসের মিটিংয়ে সিলেবাসের খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। উপাচার্যের বিশেষ অনুমতি পেলে সিলেবাস চূড়ান্ত হবে।’
এত দিন ধরে নতুন সিলেবাস প্রণয়ন না হওয়ার বিষয়ে উজ্জ্বল মণ্ডল বলেন, ‘বিভাগের আগের সংকটের কারণেই এত দিন নতুন সিলেবাস প্রণয়ন করা যায়নি। বিভাগে আন্দোলন থাকা, চেয়ারপারসন না থাকা, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন দিয়ে বিভাগ চালানো ইত্যাদি কারণে নতুন সিলেবাস হয়নি। সংকটটা মূলত ৭-৮ মাস আগ থেকেই। সিলেবাস না থাকায় এত দিন ধরে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বন্ধ রাখাও তো ঠিক হতো না।’
কলা ও মানবিকী অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সৈয়দ মোহাম্মদ কামরুল আহছান বলেন, ‘সিলেবাস প্রণয়নে কাজ চলছে। অতিদ্রুত আমরা নতুন শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন সিলেবাস তুলে দিতে পারব।’

জাবি সংবাদদাতা