ঢাবিতে শিক্ষার চেয়ে গবেষণায় বরাদ্দ বেশি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৬৬৪ কোটি ১১ লাখ টাকার বাজেট পাস করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে এ বাজেট পাস করা হয়।
অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের চেয়ারম্যান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক । সকাল ১১টা থেকে এ অধিবেশন শুরু হয় এবং বিকেল ৫টায় শেষ হয়। অধিবেশনে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন সদ্য বিদায়ী কোষাধ্যক্ষ ড. কামাল উদ্দিন। অধিবেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) ড. নাসরীন আহমাদ, প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) ড. মো. আখতারুজ্জামানসহ সিনেট সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘শিক্ষার আদর্শিক ও প্রায়োগিক দিক বিবেচনা করে সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।’ তিনি বলেন, ‘দেশের শিক্ষিত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বিকাশসাধন, আমাদের ভাষা আন্দোলন, বুদ্ধির মুক্তি-আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলন, ‘৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সব সংগ্রাম ও সংকটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গৌরবদীপ্ত ভূমিকা পালন করে এসেছে। দেশের সমাজ ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে এই শিক্ষাঙ্গনকে আরো গতিশীল ও সমৃদ্ধ করতে হবে। বর্তমান শতকের প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিয়েই আমাদের শিক্ষা পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।’
নতুন এ বাজেট পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়লেও কমেছে শিক্ষা সংক্রান্ত খাতে। এ খাতে গত বছর তুলনায় ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ বরাদ্দ কম দেওয়া হয়েছে। নতুন এ বাজেটে গবেষণায় চলতি বছরে প্রায় তিনগুণ বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ খাতে এবার বরাদ্দ ১২ কোটি ১৬ লাখ টাকা। গত বছর এ খাতে বরাদ্দ ছিল মাত্র ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
অনুমোদিত বাজেট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নতুন অর্থবছরে মোট বাজেট ধরা হয়েছে ৬৬৪ কোটি ১১ লাখ টাকা। যার ৮২ দশমিক ৫৪ শতাংশই ব্যয় হচ্ছে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও পেনশন বাবদ। অন্যদিকে, গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা সংক্রান্ত খাতে সম্মিলিত বরাদ্দ গত বছরের থেকে মোট বাজেটের ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ কমেছে। তবে বেড়েছে গবেষণায় বরাদ্দ। গত বছরের চার কোটি ৫০ লাখ টাকা থেকে এবার এ খাতে প্রায় তিনগুণ বাড়িয়ে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১২ কোটি ১৬ লাখ টাকা।
শিক্ষা সংক্রান্ত খাতের সব বিভাগে দেওয়া বরাদ্দগুলো হলো, লাইব্রেরি ও বই পুস্তক ক্রয়ে এক কোটি ৮৮ লাখ টাকা, বুকস অ্যান্ড জার্নালে বরাদ্দ ৯৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ক্যামিকেলস এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতি বাবদ বরাদ্দ সাত কোটি ৫০ টাকা, ছাত্রছাত্রীর শিক্ষা সফরে বরাদ্দ ৩৩ লাখ টাকা, সেমিনার কনফারেন্স বাবদ বরাদ্দ ২২ লাখ টাকা, পরীক্ষা সংক্রান্ত ব্যয় বাবদ বরাদ্দ ২৩ কোটি টাকা, গবেষণায় ১২ কোটি ১৬ টাকা, শিক্ষক প্রশিক্ষণে সহায়তা/সভা সম্মেলনে অনুদান বাবদ বরাদ্দ ২৫ লাখ টাকা, ছাত্রদের সুযোগ সুবিধা (ইন্টারনেট, শিক্ষা উপকরণ, বৃত্তি, বিভাগীয় খেলাধুলা, বিশ্ববিদ্যালয় খেলাধুলা, ছাত্র-পরামর্শদান, ছাত্রকল্যাণে বরাদ্দ) ছয় কোটি টাকা এবং ছাত্র পরিবহন সুবিধায় বরাদ্দ আট কোটি ৫০ লাখ টাকা।
সর্বমোট শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ৬০ কোটি ৮১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। মোট বাজেটের ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। অথচ গত অর্থ বছরে ৪২৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৫৫ কোটি ২৬ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। যা মোট বাজেটের ১২ দশমিক ৯৯ শতাংশ। ৮২ দশমিক ৫৪ শতাংশ বরাদ্দ পাওয়া শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও পেনশনের বরাদ্দগুলো হলো-শিক্ষকদের বেতন বাবদ ১৩৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা (২০.৫৮%), কর্মকর্তাদের বেতন ৪৬ কোটি ৮ লাখ টাকা (৬.৯৪%), কমর্চারীদের বেতন ৬১ কোটি ১৯ লাখ টাকা (৯.২১%)।
বেতন বাবদ মোট বরাদ্দ ২৪৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা। যা মোট বাজেটের ৩৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ। শিক্ষক-কর্মকর্তা-কমর্চারীদের ভাতা বাবদ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১৫৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা (২৩.২২%)। আর এদের পেনশন বাবদ বরাদ্দ ১৫০ কোটি টাকা। যা মোট বাজেটের ২২ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এদিকে নতুন অর্থবছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক আয় হিসেবে ধরা হয়েছে ৩৯ কোটি টাকা। যার বেশির ভাগই আসছে বিবিধ আয় থেকে। আর ছাত্রছাত্রীদের ফি এবং দালানকোঠা, ভূমি ও সম্পত্তি থেকেও আসে বাকি অর্থ।

বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা