জাবির সিনেট অধিবেশনের আগে শিক্ষার্থীদের প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ৪৩তম বার্ষিক সিনেট অধিবেশনকে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে বিভিন্ন দাবি জানিয়ে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন কর্মসূচি পালন করেছে প্রগতিশীল শিক্ষার্থীরা। আজ শনিবার (২৭ জুন) দুপুর আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের মূল ফটকের সামনে বিভিন্ন দাবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান নেন তারা। দুপুর ৩টা থেকে সিনেট অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা থাকায় তার আগেই শিক্ষার্থীরা এই অবস্থান নেন, যাতে সিনেট সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়।
শিক্ষার্থীদের প্রদর্শন করা প্ল্যাকার্ডগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কারের নানা দাবি উঠে আসে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো ছিল—গবেষণা খাতে রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ বাড়ানো, থিসিসের টাকা সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকায় উন্নীত করা, ক্যাম্পাসের পরিবেশ রক্ষায় কেন্দ্রীয় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা, প্রতিটি বিভাগে কোর্স মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা এবং পুরাতন বিভাগের চলমান সংকট নিরসন না করে কোনো অবস্থাতেই নতুন কোনো বিভাগ না খোলা। কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ইতিহাস বিভাগের ৫৩তম আবর্তনের শিক্ষার্থী লামিশা জামান বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে একটি পূর্ণাঙ্গ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন ও থিসিস বরাদ্দ বাড়ানোসহ বিভিন্ন ন্যায়সংগত দাবি নিয়ে আন্দোলন করে আসছেন। আজকেও সেসব দাবি নিয়েই তারা সিনেট ভবনের সামনে দাঁড়িয়েছেন। সিনেট অধিবেশন যেহেতু অত্যন্ত নীতি নির্ধারণী একটি জায়গা, তাই তারা আশা করছেন সিনেট সদস্যরা এবং জাকসুর শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা এই বিষয়ে কার্যকর ও সুষ্ঠু ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি অদ্রি অংকুর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নতুন করে আরও ছয়টি ডিপার্টমেন্ট খোলার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। অথচ ক্যাম্পাসের পুরাতন বিভাগগুলোর কোনোটিরই সংকট এখনো নিরসন করা সম্ভব হয়নি। এর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে মারাত্মক সিট সংকট ও একমোডেশন সমস্যা রয়ে গেছে। নতুন এই বিভাগগুলোর যেমন নিজস্ব পর্যাপ্ত জায়গা বা একাডেমিক ভবন নেই, ঠিক তেমনি নতুন যে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হবেন, তাদের জন্যও হলে কোনো সিটের ব্যবস্থা নেই। এই পরিস্থিতিতে নতুন কোনো বিভাগ খোলার আগে একটি যথাযথ একাডেমিক অ্যাসেসমেন্ট বা মূল্যায়ন করা অত্যন্ত জরুরি।
ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি আরও বলেন, বর্তমান যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছেন। এর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ছাপাখানা বা প্রিন্টিং প্রেস স্থাপন করা, থিসিস ও গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং নিষ্ক্রিয় থাকা গবেষণা সেন্টারগুলোকে অবিলম্বে কার্যকর করার দাবিও প্রশাসনের কাছে জোরালোভাবে উত্থাপন করেন তারা।

আকিব সুলতান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়