‘রেইনবো’ কেন নাম পাল্টাল?
আজ দুপুর ২টা ১০ মিনিটে বাংলাভিশনে ‘রেইনবো’ টেলিফিল্মটি প্রচারিত হবে। কিন্তু গতকাল পরিচালক তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানালেন, ‘রেইনবো’র নাম বদলানো হয়েছে। নাটকটি আজ প্রচারিত হবে ‘ইটস মাই লাইফ’ শিরোনামে। কী কারণে তিনি টেলিফিল্মটির নাম বদল করেছেন, সেটা তিনি তাঁর স্ট্যাটাসে বলেছেন।
পরিচালক লিখেছেন, “কৈফিয়ত...যারা আমার টেলিফিল্ম ‘রেইনবো’ দেখার জন্য অপেক্ষা করছেন, তাদের জ্ঞাতার্থে জানাই... ‘রেইনবো’ নাম বদলানো হয়েছে! গল্পটি কাল (সোমবার) অন এয়ার হবে ‘ইটস মাই লাইফ’ নামে। বন্ধু, শত্রু, ক্ষমতাধরগণ। আমি ‘রেইনবো’ নামে একটা টেলিফিল্ম বানিয়েছিলাম । যেখানে তিনজন নারীর নিজস্ব জীবনযাপনের গল্প বলতে চেয়েছি! এই নামটা নাকি সমকামীদের সিম্বল। হা! বাংলাদেশ! এখানে রেইনবো নামে বিরিয়ানির দোকান আছে, বাস সার্ভিস আছে, ফিল্ম সংগঠনের নাম আছে, কাপড়ের দোকান থেকে শুরু করে মনিহারি কসমেটিকসের দোকানের নামও রেইনবো আছে। তাহলে কি ধরে নেবো, এসব জিনিসপত্র সমকাম কইরা বেড়ায়!?? গল্পে আমি এমন কিছু দেখাইনি, যাতে সমাজ তার স্বাভাবিক জীবনযাপন থেকে বিচ্যুত হতে পারে। (আদৌ যদি কোনো সম্ভাবনা থাকত) এই গল্পের পুরোটা না জেনেই অনেকে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। গোলাম আযমের ছেলে নাকি তার ফেসবুক পেজে এটা প্রতিরোধের ডাক দিয়েছে। সেখানে তিনি ৭১ টেলিভিশনে প্রচারিত একটা শুট স্পট রিপোর্টের লিংক শেয়ার করে দেখিয়েছেন। তাতে তার প্রেতাত্মা অনুসারী, নব্য রাজাকাররা এটা নিয়ে প্রচুর প্রপাগান্ডা চালায়। আরো একবার আমি নিশ্চিত হলাম, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মধ্যে যে জঙ্গি প্রতিক্রিয়াশীলতা তার মূল হচ্ছে এই মৌলবাদী জামাতি গোষ্ঠীটা। তারা চাইলেই নাস্তিক অভিধা দিয়ে এই আমাদেরও খুনের লিস্টে ঠেলে দিতে পারে! একটা অদ্ভুত প্রগতির মুলো ঝুলিয়ে রাষ্ট্র সেখানে মৌন, বিকল চোখে তাকিয়ে দেখবে। শুনলাম, সরকারের একটা সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর গোয়েন্দা সংস্থা ‘রেইনবো’ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছে। তারা গল্পের ‘রেইনবো’ নামটা ইরেজ করে দিতে চায়। এই নামে কোনো ফিকশন অন এয়ার হলে প্রশান্ত রাষ্ট্রে তুমুল অশান্তি তৈরি হবে। তাহলে ঘটনা কী দাঁড়াল? তার সারমর্ম এই যে, ‘জামাতিদের দাবির সপক্ষে গিয়ে তারা স্ট্যান্ড নিয়েছে। প্রতিক্রিয়াশীল, খুনবাদী গোষ্ঠী যদি এইভাবে রাষ্ট্রের প্রশ্রয় পেতে থাকে, তার পরিণতি নিশ্চিতভাবেই ভালো হবে না একসময়! মুক্তিযোদ্ধা পিতার সন্তান হিসেবে আমি এই পুরো প্রক্রিয়াটাকে প্রত্যাখ্যান করছি।”
টেলিফিল্মটির শুটিংয়ের সময় পরিচালক মাহমুদ দিদার এনটিভি অনলাইনকে বলেছিলেন, “আমি বিশ্বাস করি, মানুষের জীবন কখনো সাদা অথবা কালো হতে পারে না। রংধনুর সাত রঙের মতো মানুষের জীবন রঙিন। তাই টেলিফিল্মটির নাম রেখেছি ‘রেইনবো’।” ‘রেইনবো’ টেলিফিল্মের প্রধান তিনটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন রিচি সোলায়মান, প্রভা ও স্বাগতা।

নাইস নূর