ভাগ্যই আমাকে মেকআপ আর্টিস্ট বানিয়েছে : মনির হোসেন
হতে চেয়েছিলেন ক্যামেরাম্যান। কিন্তু ভাগ্যক্রমে হয়ে গেলেন মেকআপ আর্টিস্ট। এমন ভাগ্যবদলে খুশিই হয়েছেন মনির হোসেন। আর হবেনই বা না কেন? মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে তিনি এরই মধ্যে দেশীয় মিডিয়া শিল্পে নিজস্ব জায়গা করে নিয়েছেন। শুধু দেশ নয় দেশের বাইরেও কাজ করেছেন মেকাপ আর্টিস্ট হিসেবে। মেকআপ নিয়ে নিজের ভাবনা, ক্যারিয়ার এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মনির হোসেন কথা বলেছেন এনটিভি অনলাইনের সঙ্গে।
এনটিভি অনলাইন : ভাগ্যে বিশ্বাস করেন?
মনির হোসেন : হ্যা, আমি ভাগ্যে বিশ্বাসী। ভাগ্যই আজকে আমাকে সফল মেকআপ আর্টিস্ট বানিয়েছে।
এনটিভি অনলাইন : চাইলে তো অন্য কোনো পেশায় যেতে পারতেন।
মনির হোসেন : তা পারতাম। ওই যে ভাগ্যের কথা বললাম। প্রথমে হতে চেয়েছিলাম ক্যামেরাম্যান। ক্যামেরাম্যানের সহকারী হিসেবে কাজ করতে করতে একসময় মেকআপের প্রতি ভালো লাগা তৈরি হলো। একটা সময় মনে হলো আমি ক্যামেরা চালানোর চেয়ে মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে ভালো করব। সেই ভাবনা থেকেই মূলত এই পেশায় আসা।
এনটিভি অনলাইন : মেকআপ আর্টিস্ট হয়ে ওঠার পেছনের গল্পটা শুনতে চাই।
মনির হোসেন : ক্যামেরাম্যানের সহকারী হিসেবে যখন কাজ করা শুরু করি তখন মমতাজ আপার বাড়িতে মেকআপম্যান রশীদের সাথে পরিচয় হয়। তিনি তাঁর বড় ভাই দেশের জনপ্রিয় মেকআপ আর্টিস্ট মাহবুবুর রহমান মানিকের কাছে আমাকে পাঠান। উনাকে আমার পেশা পরিবর্তন এর কথা জানাতেই তিনি আমাকে সাহায্য করেন। তারপর আমি টানা তিন বছর মেকআপ সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করি।
এনটিভি অনলাইন : বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মেকআপ আর্টিস্টরা তেমন একটা মূল্যায়িত হন না। যখন শুরু করেছিলেন তখন কি বিষয়টা সম্পর্কে জানতেন?
মনির হোসেন : সত্যি কথা বলতে তখন জানতাম না। তবে যাঁরা প্রকৃতভাবে মেকআপের কাজ জানেন তাঁদের মূল্যায়ন করা হয়। প্রকৃত মেকআপ বলতে বোঝাচ্ছি যে, অনেকেই আছেন যাঁরা ছবির দৃশ্য ও চরিত্র বুঝে মেকআপ করতে পারেন। মেকআপটা কেমন করলে ক্যামেরাতে ভালো আসবে সেটা বুঝে কাজ করা আর কি!
এনটিভি অনলাইন : দেশের বাইরেও তো মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন আপনি।
মনির হোসেন : কলকাতার অঙ্কুশ, শুভশ্রী, কোয়েল মল্লিকসহ বেশ কয়েকজনের মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করেছি। বলিউডের অমিতাভ বচ্চন, ইরফান খানসহ অনেকের মেকআপ করেছি। এ ছাড়া ‘ওএমজি’ নামের একটি সিনেমায় মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করেছি। ডিসেম্বরে বলিউডে যাচ্ছি সানি লিওনের মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করতে।
এনটিভি অনলাইন : সানি লিওন এর সাথে কাজ করছেন। ইমেজ সংকটে পড়বেন না?
মনির হোসেন : প্রশ্নই আসে না। দেখুন আমি একজন মেকআপ আর্টিস্ট। আমার কাছে সব শিল্পীই সমান। সুতরাং এসব আমার ইমেজের ওপর প্রভাব ফেলবে না।
এনটিভি অনলাইন : ভারতের মেকআপ আর্টিস্টদের সাথে কাজ করেছেন। ওখানকার আর এখানকার মধ্যে কি কোনো পার্থক্য চোখে পড়েছে?
মনির হোসেন : খুব একটা পার্থক্য মনে হয়নি। তবে সমস্যাটা হলো এখানে অতিরিক্ত মেকআপ দেওয়া হয়। অনেকটা যাত্রাপালার ধরনের মেকআপ। সবার মনে একটা ধারণা জন্মেছে যে, মেকআপ বেশি দিলেই ভালো। এই ধারণা একদম ভুল। ভারতের মেকআপ আর্টিস্টরা যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকু মেকআপ দেন। অতিরিক্ত কিছু করেন না।
এনটিভি অনলাইন : পেশাদারত্বের দিক থেকে কারা এগিয়ে?
মনির হোসেন : অবশ্যই ভারত। কারণ ভারতের মেকআপ আর্টিস্টরা খুবই সিরিয়াস। তাঁরা মেকআপ নিয়ে রীতিমতো গবেষণা করেন। মেকআপ করার পর যখন শট নেওয়া হয় তখন তারা মনিটরে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেন। স্ক্রিনে যতক্ষণ পর্যন্ত ভালো না লাগবে ততক্ষণ মেকআপ আর্টিস্টরা নিজেদের মেকআপ নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করেন।
মূলত ওনারা মেকআপ বিষয়টা বুঝে নিজেদের ভেতর ধারণ করেন।
এনটিভি অনলাইন : ভারতে কাজের সুযোগ কীভাবে এলো?
মনির হোসেন : অলোক দত্ত নামের কলকাতার একজন মেকআপ আর্টিস্ট রয়েছেন তাঁর মাধ্যমেই কাজের সুযোগ পাওয়া। তাঁকে আমি বাবার মতো শ্রদ্ধা করি, তিনিও আমাকে সন্তানের মতো স্নেহ করেন।
এনটিভি অনলাইন : বর্তমানে বাংলাদেশে মেকআপ শিল্পের অবস্থা কেমন বলে আপনার মনে হয়?
মনির হোসেন : আমাদের দেশে এখনো মেকআপ শিল্পটা গড়ে ওঠেনি সেভাবে। গড়ে উঠলে হয়তো এ দেশে মেকাপের ওপর লেখাপড়া করার ইনস্টিটিউট থাকত। সেটা নেই। খুব দ্রুত একটি মেকআপ ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা উচিত।
এনটিভি অনলাইন : আপনি তো একটি মেকআপ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিতে পারেন।
মনির হোসেন : সে পরিকল্পনা আছে আমার। খুব দ্রুত গড়ে তুলব।
এনটিভি অনলাইন : ‘রিফ্লেকশন’ নিয়ে কিছু বলুন।
মনির হোসেন : ‘রিফ্লেকশন’ একটি বিউটি পার্লার। কয়েকদিন হলো এটি উদ্বোধন করেছি। আমার সঙ্গে চিত্রনায়িকা নিঝুম রুবিনা রয়েছেন বিজনেস পার্টনার হিসেবে। এই পার্লারে সব ধরনের মেকআপ করা হয়।

রেজওয়ান সিদ্দিকী অর্ণ