একুশ
বাংলার ব্যবহার প্রশ্নবিদ্ধ
বাংলা ভাষার রাষ্ট্রীয় মর্যাদা উজ্জ্বল হোক—এটাই ছিল আমাদের প্রত্যাশা। এটি প্রাথমিক এবং সেটি আমরা অর্জন করেছিলাম। তার পরে নিহিতার্থ অনুযায়ী বাংলা ভাষাকে জীবনের, বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে, সর্বস্তরে ব্যবহারের একটা লক্ষ্য আমাদের ছিল। আমাদের বাহাত্তরের সংবিধানে এ ঘোষণা হয়ে গেল যে রাষ্ট্রভাষা হবে বাংলা। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৬ বছর পেরিয়ে গেল, তার পরও আমরা দেখি যে এখনো বাংলা ভাষার মর্যাদা পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠা হয়নি। বিশেষ করে বিচার বিভাগ এখনো ইংরেজিতে রায় লিখছে।
যতটুকু বাংলা ব্যবহার করা হয়েছে, তাতে মান প্রশ্নবিদ্ধ। এর জন্য অবশ্য দায়ী সরকারি উদ্যোগ। যাঁরা বুদ্ধিজীবী বা যাঁরা বাংলার ব্যবহার করেন, তাঁদের বাংলাও প্রায়ই গুণমানহীন হয়ে যায়। যার ফলে আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রাপ্তি হয়নি বা প্রত্যাশাপ্রাপ্তির সমীকরণ হয়নি।
উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলা, বিশেষ করে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাংলায় শিক্ষাদান করা হয়। কিন্তু সেই বাংলার মানও প্রশ্নবিদ্ধ। উচ্চশিক্ষার স্তরে মানসম্পন্ন বাংলা পাঠ্যপুস্তক এখনো নেই। কিন্তু অবশ্যই উচ্চশিক্ষার স্তরে গুণগত মানসম্পন্ন পাঠ্যপুস্তক থাকা দরকার ছিল।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলা ভাষা ব্যবহারের একটা দিক আছে। সেটা হচ্ছে জাতিসংঘের অন্যতম দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে বাংলাকে বিবেচনা করার দাবি বেশ কিছুদিন থেকে চলমান। এ জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া দরকার।
লেখক : অধ্যাপক, ইতিহাস বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন