হাসতে মানা
গমে বিশ্বাস রাখুন
অনেক দিন পর যাঁতা বের করেছেন জুম্মন মিয়া। তা বের করবেন না কেন? ইদানীং আটার রুটি খেয়ে একদম বল পাচ্ছেন না। তাঁর অবস্থা বেগতিক হয়ে গেছে। জুম্মন মিয়া এতদঞ্চলে অত্যন্ত বলশালী লোক হিসেবে সুপরিচিত। আগে ১০ মণের বস্তা নিয়ে অনায়াসে ঘুরে বেড়াতেন। এখন চার কেজি ওজনের কাঁঠাল নিয়ে বাজার থেকে ফিরতে পারছেন না। বন্ধুরা তাঁর সংসার নিয়েও বেশ চিন্তায় আছেন। তা থাকবেই না কেন, তাঁর বউ শুঁটকি বেগম নামে শুঁটকি হলেও বাচ্চা হাতির মতো মোটা। জুম্মন মিয়া আবার খুব বউ-পাগলা। ঘরের অর্ধেক কাজ তাঁকে করতে হয়, সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি কাজই করেন তিনি। দুষ্টু লোকেরা এর কারণ আবিষ্কার করেছে, বউয়ের মার খাওয়ার ভয়ে তিনি কাজ করেন। যাক, আসল খবরে যাই, জুম্মনের কাছে জানতে চাইলাম—যাঁতা বের করেছেন কোন উদ্দেশ্যে? তিনি হাউমাউ করে কেঁদে বললেন, ভাই, বিদেশি গমের আটা খেয়ে বল পাচ্ছি না। তাই দেশি গমের আটা বানাব। তাঁর দেশপ্রেম দেখে সত্যিই মনটা বড় হয়ে গেল।
জুম্মন মিয়ার কথা বাদ দিলাম, আমার পরকীয়া প্রেমিকা তো ঘোষণাই দিয়েছে, আর রুটি খাবে না। ব্রাজিলের গম দেখে তার ভয় লেগেছে, যদি তার চেহারা গমের মতো হয়ে যায় তো তার বাজারদর কমে যাবে। গম আর আটা নিয়ে আমিও চিন্তায় আছি। গমগুলো নাকি শুকিয়ে গেছে। আমাদের আন্তর্জাতিক গম-বিশেষজ্ঞ মামা তো বলেই ফেললেন, ব্রাজিলের গমে বিশ্বাস রাখো, এই গম খেয়েই তো পেলে, সক্রেটিস আর কাকারা বিশ্বজয় করেছে। মামাকে অন্য কথা বলতে গেলেই তেড়ে এলেন, খবরদার ব্রাজিলের বিষয়ে কোনো খারাপ কথা বলা যাবে না। ব্রাজিল হলো বিশ্ব ফুটবলের রাজা। ওদের খেলোয়াড়দের ওপর যেমন বিশ্বাস রাখা যায়, তেমনি গমের ওপরও। মামার আক্রমণাত্মক অবস্থা দেখে আর বলতে সাহস পেলাম না, গত বিশ্বকাপে ব্রাজিল ফুটবল দল কেমন নাকাল হয়েছিল। তবু মিনমিন স্বরে বললাম, বিশ্বাস যদি পোকায় খায়। ভয় নেই ভাগিনা, আমি চাই এই গম বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে বরাদ্দ করা হোক। এই গম খেয়েই আমাদের ফুটবল খেলা সামনে এগিয়ে যাবে, আর কোনো বিদেশি খেলোয়াড় দরকার হবে না। গম-বিশেষজ্ঞ মামার কথা শুনে ভরসা পেতে শুরু করলাম, ছোটবেলা থেকেই হারলেও ব্রাজিল দলের খেলায় আস্থা রেখেছি। বড় বেলায় ব্রাজিলিয়ান গমে আস্থা রাখছি।
জুম্মন মিয়াকে বোঝাতে হবে, এই গমে আস্থা রাখো, তোমার শুঁটকি বউ ঘরেই থাকবে। কিন্তু আমার বিয়ে করা বউকে কেমন করে বোঝাব। তা-ও সাহস করে ওর কাছে গেলাম। ওকে ব্রাজিলের গমে আস্থা রাখার কথা বলতেই আমাকে বেশ দুকথা শুনিয়ে দিল। আমার নাকি দেশপ্রেম বলতে কিছুই নেই। দেশি গমে ভরসা রাখতে হবে। বুঝতে পারলাম, আর্জেন্টাইন সমর্থক আমার বউ এবার সুযোগ পেয়েছে। বেশ গর্ব ভরেই আমাকে বলে, যদি দেশি গমে আস্থা না রাখতে পারো তো আর্জেন্টিনার গমে আস্থা রাখো। গম বাদ দেওয়ার কথা ভাবাই যাবে না। মেসিকে দেখে তোমার মনে হয় না, ওদের গম খেলে ত্বক কত ভালো হবে। বউয়ের কথা শুনে মনটা আমার ভালো হয়ে গেল, লোকজন এখনো গমে আস্থা রাখে। সত্যি তো, গমের তো আর দোষ নেই। সব দোষ আমাদের।

তানভীর আহমেদ সিডনী