যা আছে ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপে
জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের পর নাসা এবার মহাকাশে উৎক্ষেপণ করতে যাচ্ছে ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ। এটি মূলত পরবর্তী প্রজন্মের ইনফ্রারেড মহাকাশ টেলিস্কোপ যা নাসার প্রথম প্রধান জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং হাবল টেলিস্কোপের জননী ‘ন্যান্সি গ্রেস রোমানের’ স্মরণে নামকরণ করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে এর নাম রাখা ছিল-ডব্লিউএফআইআরএসটি-এএফটিএ।
এই টেলিস্কোপটি হাবল টেলিস্কোপের তুলনায় কমপক্ষে ১০০ গুণ বড় এরিয়া নিয়ে ছবি তুলতে পারবে এবং হাবলের চেয়ে ১,০০০ থেকে ১,৫০০ গুণ দ্রুত মহাকাশের গ্যালাক্সিগুলো জরিপ বা ম্যাপ করতে পারবে। অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সির মূল অংশটি হাবল যেখানে বহু চেষ্টায় ছবি তুলতো, রোমান মাত্র কয়েকটি ক্লিকেই তার প্যানোরামিক দৃশ্য ধারণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপটি মূলত হাবল টেলিস্কোপের রেজুলেশন বজায় রেখে বিশাল মহাবিশ্বের প্যানারমিক ছবি ক্যাপচার করবে। ফলে মহাবিশ্বের প্রসারণ, এর গতি, ডার্ক এনার্জি এবং আমাদের এই সৌরজগতের বাহিরের গ্রহ বা এক্সোপ্লানেট সহ জ্যোতির্বিজ্ঞানের অনেক রহস্য উদঘাটনের সাহায্য করবে। এ ছাড়াও এটি কোটি কোটি গ্যালাক্সি ও তারার মানচিত্র তৈরি করতেও সহায়তা করবে।
প্রধান যন্ত্রাংশ সমূহ
১. ওয়াইল্ড ফিল্ড ইন্সট্রুমেন্ট (WFI): এই যন্ত্রটিই মূলত হাবলের রেজুলেশন বজায় রেখেই মহাবিশ্বের বিশাল প্যানারমিক দৃশ্য ক্যাপচার করার জন্য ব্যবহার করা হবে।
২. করোনাগ্রাফ ইন্সট্রুমেন্ট: এই ইন্সট্রুমেন্টটি নক্ষত্রের অতিরিক্ত আলো আটকে দিয়ে সরাসরি ভিন্ন কোনো গ্রহের বা আমরা যাকে এক্সোপ্লানেট বলে থাকি তার ছবি তুলতে কাজ করবে।
সম্প্রতি নাসার ওয়েবসাইটে জানানো হয় যে, প্রযুক্তিবিদরা নাসার ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপে ফুয়েল বা জ্বালানি ভরার কাজ সম্পন্ন করেছেন। যা থেকে ধারণা করা হয় এটি উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত। গত ২৫ শে জুলাই ফ্লোরিডায় নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টারের পেলোড হ্যাজার্ডাস সার্ভিসিং ফ্যাসিলিটির ভিতরে ২৯০ গ্যালন হাইড্রোজেন জ্বালানি ভরার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।
পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে করতে হয়। কারণ এটি উৎক্ষেপনের পর মূল রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হলে, এই অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ব্যবহার করেই পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫ লক্ষ মাইল দূরে অবস্থিত সূর্য পৃথিবীর ল্যাগ্রেঞ্জ পয়েন্ট ২ বা এল২ (L2) এর দিকে যাত্রা করবে। যাত্রা পথে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি এখান থেকেই সরবরাহ করা হয়।
নাসা জানায়, গবেষকরা এই টেলিস্কোপের মাধ্যমে আবিষ্কৃত হাজার হাজার এক্সোপ্লানেট অধ্যয়ন করতে আগ্রহী। যাতে তারা জানতে পারেন সেগুলো পৃথিবীর সঙ্গে কতটা সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে এর অন্যতম মূল কাজ, ডার্ক এনার্জির রহস্য এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই মহাবিশ্ব কিভাবে দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে সেই বিষয়ে গবেষণা করা। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন এর মাধ্যমে আমরা ডার্ক এনার্জির যে বিষয়টি এখনো আমাদের কাছে অজানা তার রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হবো।
মহাকাশে থাকাকালীন সময় ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপকে এনার্জি জোগাবে যে সৌর প্যানেল তার কাজও সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সোলার অ্যারেসান শিল্ড নামে পরিচিত এই ছয়টি প্যানেলের প্রতিটির আকার প্রায় ৭ বাই ১০ ফুট (২.১ বাই ৩ মিটার)।
এটি নাসার একটি স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের পরিচালিত প্রজেক্ট হলেও ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সি (ESA), ফ্রান্সের CNES, জাপানের JAXA-এর মতো বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ সংস্থা এর সাথে যুক্ত রয়েছে।
সব প্রক্রিয়া সঠিক ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হওয়ায় নাসা এর উৎক্ষেপণ তারিখ পরিবর্তন করে আরো এগিয়ে নিয়ে এসেছে। কোন ত্রুটি ধরা না পড়লে আগামী ৩০ আগস্ট সকাল ৭:২৬ (EDT) এবং বাংলাদেশে সময় রাত ৯টা ২৬ মিনিটে এটি স্পেসএক্স কেনেডির লঞ্চ কমপ্লেক্স থেকে স্পেসএক্স ফ্যালকন হেভি রকেটে করে উৎক্ষেপণ করা হবে।
তথ্যসূত্র: নাসা

শাহরিয়ার ইসলাম