সৌদিআরবে আটকা পড়েছেন হাজারও বাংলাদেশি ওমরাহ যাত্রী
পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা হাজারও বাংলাদেশি ওমরাহ যাত্রী এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের ছয় দেশ তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়ায় সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় আটকা পড়েছেন তারা। নির্ধারিত সময়ে ফ্লাইট না হওয়ায় আবাসন, খাবার ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক চাহিদা নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এসব যাত্রী।
ইউএস-বাংলাএয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে শনিবার ঢাকা ফেরার কথা ছিল বহু ওমরাহযাত্রীর।
কিন্তু ফ্লাইট স্থগিত হয়ে যাওয়ায় তারা পড়েছেন বিপাকে। হোটেল থেকে চেক আউট করে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার অবস্থা অনেকের। নতুন করে কক্ষ পাওয়া দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। একই অবস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও সৌদি এয়ারলাইনসের যাত্রীদেরও।
শনিবার সকালে ইরানে হামলার পরপরই ইসরায়েল তাদের আকাশসীমায় সব বেসামরিক বিমানের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে। পরে একে একে ইরান, ইরাক, কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও একই পথে হাঁটে। বাহরাইন, দুবাই ও কাতারসহ একাধিক দেশের আকাশপথে বিধিনিষেধ জারি হওয়ায় ঢাকা থেকেও এসব গন্তব্যে সব ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। ফলে ইউএস-বাংলার যে ফ্লাইটটি শনিবার ঢাকা থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা ছিল, সেটি যেতে পারেনি। আর সেটিই ফিরিয়ে আনার কথা ছিল আটকা পড়া যাত্রীদের।
মক্কা ও মদিনার বিভিন্ন হোটেলে অবস্থানরত এসব যাত্রীর অনেকেই নির্ধারিত সময় অনুযায়ী হোটেল ছেড়ে দিয়েছেন। ফ্লাইট স্থগিত হওয়ার খবর পেয়ে হোটেলে ফিরে গিয়েও নতুন কক্ষ না পাওয়ার হাহাকার।
তবে সৌদিতে আটকা পড়া ওমরাহ যাত্রীরা বলছেন, সেখানকার এয়ারলাইনস প্রতিনিধিরা সেভাবে সহায়তা করছেন না। যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পক্ষ থেকে যাত্রীদের ১৩৬৩৬ নম্বরে যোগাযোগ করে সর্বশেষ ফ্লাইট পরিস্থিতি জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামীকাল রবিবার দাম্মাম, জেদ্দা, মদিনা, রিয়াদ, শারজাহ, আবুধাবি, কুয়েত ও দুবাইগামী ফ্লাইটের যাত্রীদের এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়া বিমানবন্দরে না আসার অনুরোধ করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যগামী অন্যান্য যাত্রীদেরও নিজ নিজ এয়ারলাইনস বা ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত যাত্রী নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পরিস্থিতি খুব জটিল আকার ধারণ করলে সরকারকে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত সেই পথে কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। কয়েক হাজার যাত্রীর এই দুর্ভোগ কতদিন স্থায়ী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

কামাল পারভেজ অভি, মক্কা