ইরানের সামরিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার কড়া জবাব দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। গত শুক্রবার (২৬ জুন) প্রণালির আশেপাশে থাকা ইরানের একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। চুক্তি লঙ্ঘন করে ইরানের চালানো ড্রোন হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। খবর সিএনএনের।
মার্কিন সেন্টকম এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে, যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত কেন্দ্র এবং উপকূলীয় রাডার সাইটগুলোতে নিখুঁত হামলা চালিয়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানি বাহিনীর এই অযাচিত আগ্রাসন স্পষ্টভাবেই সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর এই হামলার একটি সাদাকালো ভিডিও প্রকাশ করেছে। তবে একটি মার্কিন সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, এই বিমান হামলা কোনো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরুর ইঙ্গিত নয়, বরং এটি একটি সুনির্দিষ্ট সতর্কতামূলক জবাব।
‘বোকামি করেছে ইরান’, হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
ইরানের এই হামলাকে শান্তি চুক্তির ‘বোকামিপূর্ণ লঙ্ঘন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি শুক্রবার সকালে নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ লিখেছেন, ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী জাহাজের দিকে অন্তত চারটি ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন (আত্মঘাতী ড্রোন) ছুড়েছিল। এর মধ্যে একটি ড্রোন বিশাল এবং অত্যন্ত ব্যয়বহুল কার্গো জাহাজের ওপরের ডেকে আঘাত হানে। জাহাজটির কিছু ক্ষতি হলেও সেটি তার গন্তব্যে এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। আমাদের বাহিনী বাকি তিনটি ড্রোন আকাশে ধ্বংস করে দিয়েছে।
পরবর্তীতে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকরা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে ট্রাম্প সংক্ষিপ্ত ও রহস্যময় জবাবে বলেন, আপনারা খুব শিগগিরই তা জানতে পারবেন। এর কয়েক ঘণ্টা পরই সেন্টকমের এই বিমান হামলার খবর সামনে আসে। ওয়াশিংটনে এক সমাবেশে ট্রাম্প আরও বলেন, আমাদের এখনও লড়াই বাকি আছে। দীর্ঘ লড়াইয়ের পরও তাদের কিছুটা সামরিক সক্ষমতা রয়ে গেছে, খুব বেশি নয়। তারা জিতছে না, তবে তাদের এখনও গুলি ছোড়ার ক্ষমতা আছে। তারা এটা করতে পারে না।
শুক্রবার সন্ধ্যায় এক্স (টুইটার) প্ল্যাটফর্মে অত্যন্ত কড়া বার্তা দিয়েছেন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মধ্যস্থতায় প্রধান ভূমিকা পালন করা মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সেন্টকমের বিমান হামলার ঘোষণাটি শেয়ার করে তিনি লেখেন, সহিংসতার জবাব সহিংসতা দিয়েই দেওয়া হবে।
ভ্যান্স আরও বলেন, ইরান একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। আমরা সেটি পুরোপুরি সম্মান করেছি। এই সমঝোতা স্মারক কীভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে তা নিয়ে যদি তাদের কোনো দ্বিমত থাকে, তবে তারা সরাসরি ফোনে কথা বলতে পারত। কিন্তু তা না করে তারা সহিংসতা বেছে নিয়েছে, যার জবাব সহিংসতা দিয়েই দেওয়া হলো।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’ জানিয়েছে, মার্কিন বিমান হামলার জবাবে ইরানের শক্তিশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক অবস্থানগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী এখন পর্যন্ত তাদের কোনো ঘাঁটিতে ইরানি হামলার খবর নিশ্চিত বা স্বীকার করেনি।
গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর এই প্রথম দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাতের ঘটনা ঘটল। মূলত হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে ‘টোল’ বা ট্রানজিট ফি আদায় ও জাহাজের রুট নির্ধারণ নিয়ে দুই দেশের বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণেই এই শান্তি চুক্তি হুমকির মুখে পড়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণ টোল-মুক্ত এবং উন্মুক্ত ঘোষণা করলেও ইরান এই জলপথের ওপর তাদের পূর্ণ তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার দাবিতে অনড় রয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক