জুয়াড়িদের জন্য পিসিবির দরদ?
পাকিস্তান ক্রিকেটের সঙ্গে দুর্নীতি যেন একই সূত্রে গাঁথা। জুয়াড়িদের কবলে পড়ে দেশটির অনেক ক্রিকেটারই নিজেদের সোনালি সময় হারিয়ে ফেলেছেন। সম্প্রতি সেই তালিকায় যোগ হলেন উমর আকমল। দুর্নীতির দুটি ধারা ভাঙার অভিযোগে তিন বছরের জন্য নিষিদ্ধ হন প্রতিভাবান এই ক্রিকেটার।
বিষয়টি নিয়ে গত কয়েক দিন বেশ আলোচনা হচ্ছে। এতে প্রশ্ন উঠছে পিসিবির ভূমিকা নিয়েও। উমর আকমল নিষিদ্ধ হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে পিসিবিকেই দোষারোপ করেছেন বোর্ডের সাবেক সভাপতি খালিদ মেহমুদ।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডেইলি এক্সপ্রেসকে মেহমুদ বলেন, ‘বাজিকরের প্রস্তাব গোপন করে নিষিদ্ধ হয়েছে উমর আকমল। তাহলে বাজিকরের বিপক্ষেও পিসিবির ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। বুঝি না, বাজিকরদের প্রতি পিসিবির কীসের এত দরদ।’ পিসিবির আইনি উপদেষ্টা তফাজ্জুল রিজভির ব্যাখ্যাটা খুব অদ্ভুত, ‘বাজিকরদের বিপক্ষে নাকি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা নেই। তাহলে পিসিবিতে কেউ চুরি করলে বোর্ড কি একই কথা বলবে? তারা পুলিশের কাছে যাবে এবং অভিযোগ দাখিল করবে। তাহলে বাজিকরদের বিপক্ষে কেন ফৌজদারি তদন্তের অনুরোধ করতে পারছে না পিসিবি?’
একই প্রশ্ন তুলেছেন পাকিস্তানের সাবেক বোলার শোয়েব আখতারও। উমর আকমলের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে শোয়েব আখতার বলেন, ‘আকমলের শাস্তিটা কি সমর্থন করার মতো হয়েছে? আমাকে বলতেই হবে পিসিবির আইন বিভাগ একেবারেই অকাজের ও অযোগ্য। বিশেষ করে তফাজ্জুল রিজভি (পিসিবির আইন উপদেষ্টা), জানি না সে কোথা থেকে এসেছে। তার ভালো যোগাযোগ আছে, গত ১০-১৫ বছর ধরে পিসিবিতে আছে। এমন কোনো মামলা নেই যে সে হারে।'
এর জন্য শোয়েবকে ১০০ মিলিয়ন রুপির মানহানির আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন রিজভি। মামলা করে উল্টো বিবৃতি দিয়েছে পিসিবি, ‘শোয়েব আখতারের আপত্তিকর শব্দচয়নে পিসিবি হতাশ। জনসমক্ষে তিনি পিসিবি আইন বিভাগ ও আইন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। শোয়েব আখতার যে ভাষায় কথা বলেছেন, সেটি একেবারেই অনুপযুক্ত ও মানহানিকর। কোনো সভ্য সমাজ এটি মেনে নিতে পারে না। পিসিবির আইন উপদেষ্টা তফাজ্জুল রিজভি নিজে দায়িত্ব নিয়ে শোয়েব আখতারের বিরুদ্ধে মানহানি ও ফৌজদারি মামলা করেছেন।'

স্পোর্টস ডেস্ক