বিপিএলে কেমন করছেন বাংলাদেশি তারকারা?
গত ১১ ডিসেম্বর জাঁকজমক উদ্বোধনীর মাধ্যমে পর্দা উঠেছিল বঙ্গবন্ধু বিপিএলের। ঢাকা-চট্টগ্রাম মিলিয়ে এরই মধ্যে শেষ হয়েছে দুই পর্ব। গড়িয়েছে ২০টি ম্যাচ। দেশ-বিদেশের অনেক তারকার সঙ্গে বিপিএল মাতাচ্ছেন বাংলাদেশের কিছু উঠতি তরুণও।
আগামী বছর অস্ট্রেলিয়ায় গড়াবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তাঁর আগে দল গড়তেই মূলত বিশেষ বিপিএলের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এবার অবশ্য স্থানীয় ক্রিকেটারদের আধিক্য বেশি। আগের আসরগুলোর তুলনায় এবার বিদেশি বড় তারকা কমই এসেছে। নিয়মিত একাদশে সুযোগও পাচ্ছেন তাঁরা। ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন স্বাগতিক ক্রিকেটাররা। এখন আলোচনায় এসেছে স্থানীয় ক্রিকেটাররা এই সুযোগগুলো কতটা লাগাতে পারছেন? দুই পর্ব মিলিয়ে কেমন পারফর্ম করলেন তাঁরা? চলুন, পরিসংখ্যানে দেখে নেওয়া যাক স্থানীয় ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স।
ব্যাটিং বিভাগ
দুই পর্ব শেষে ব্যাটিংয়ে তেমন জ্বলে উঠতে পারেননি বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। রান পেতে লড়াই করছেন তামিম ইকবাল, সাব্বির রহমান, সৌম্য সরকার, মুমিনুল হকরা। কিন্তু এখন পর্যন্ত ধারাবাহিক ছন্দ ফিরে পাননি কেউ। চট্টগ্রামের তুলনায় ঢাকায় প্রথম পর্বে তুলনামূলক ভালো করেছিলেন স্বাগতিক ব্যাটসম্যানরা। ঢাকায় প্রথম আট ম্যাচ শেষে তিন অঙ্ক ছুঁয়েছিলেন ছয় ব্যাটসম্যান, যার মধ্যে পাঁচ ব্যাটসম্যানই ছিলেন বাংলাদেশের। ১১৭ রান করে যৌথভাবে সবার শীর্ষে ছিলেন ইমরুল কায়েস। শীর্ষ আটে মাত্র একজন ছিলেন বিদেশি।
সে তুলনায় চট্টগ্রামে ভালো করেছেন বিদেশি ব্যাটসম্যানরা। চট্টগ্রাম পর্বে সবাইকে ছাড়িয়ে রান সংগ্রহে শীর্ষে উঠে গেছেন ডেভিড মালান। কুমিল্লার এই ব্যাটসম্যান ৩০০ রান করে শীর্ষে উঠে গেছেন, যাতে একটি সেঞ্চুরি করেন। আর খুলনা টাইগার্সের হয়ে খেলা রাইলি রুশো পাঁচ ম্যাচে নিয়েছেন ২৫৯ রান, যাতে আছে তিনটি হাফসেঞ্চুরি। তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানেও আছেন বিদেশিরা। ঢাকা পর্বে শীর্ষে থাকা ইমরুল নেমে গেছেন পাঁচ নম্বরে। চট্টগ্রামের হয়ে খেলা ইমরুল সাত ম্যাচে করেছেন ২৩৫ রান, যার মধ্যে আছে দুটি হাফসেঞ্চুরি। এ ছাড়া শীর্ষ দশে আছেন বাংলাদেশের আরো তিন ব্যাটসম্যান। তাঁরা হলেন তামিম ইকবাল, লিটন দাস ও মোহাম্মদ মিঠুন।
বোলিং বিভাগ
দুই পর্ব শেষে ব্যাটসম্যানদের তালিকায় বিদেশিদের দাপট থাকলেও বোলারদের তালিকায় দাপট দেখাচ্ছেন বাংলাদেশিরা। তবে জাতীয় দলের বোলার হিসেবে আলো ছড়াতে পারছেন না। মুস্তাফিজ-তাসকিন-মেহেদী হাসান মিরাজরা আলো ছড়াতে পারেননি। অভিজ্ঞদের তুলনায় ভালো করছেন তরুণরা। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের তালিকায় সবার শীর্ষে আছেন চট্টগ্রামের বোলার মেহেদী হাসান রানা। পাঁচ ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়ে সবার শীর্ষে আছেন তরুণ এই পেসার। উইকেট সংগ্রহের তালিকায় চতুর্থ স্থানে আছেন জাতীয় দলের পার্টটাইম বোলার সৌম্য সরকার। সমান ছয় ম্যাচ খেলে ৮ উইকেট নিয়েছেন কুমিল্লার হয়ে খেলা সৌম্য। সমান ৮ উইকেট নিয়ে পঞ্চম স্থানে আছেন রুবেল হোসেন। এর পরের দুই স্থানে আছেন মুজিব উর রহমান ও আন্দ্রে রাসেল। তালিকায় নবম স্থানে আছেন মুস্তাফিজুর রহমান। বাজে সময় পার করা কাটার মাস্টার নিয়েছেন মাত্র ৬ উইকেট। পাঁচটি করে নিয়েছেন এবাদত হোসেন, আল-আমিন হোসেন ও শফিউল ইসলামরা।
ব্যাটিংয়ে সেরা পাঁচ
নাম ম্যাচ রান
ডেভিড মালান ৬ ৩০০
রাইলি রুশো ৫ ২৫৯
চ্যাডউইক ওয়ালটন ৭ ২৪০
জনসন চার্লস ৬ ২৩৬
ইমরুল কায়েস ৭ ২৩৫
ফার্নান্দো ৬ ২২১
বোলিংয়ে সেরা পাঁচ
নাম ম্যাচ উইকেট
মেহেদী হাসান রানা ৫ ১৩
আন্দ্রে রাসেল ৫ ৯
মুজিব উর রহমান ৬ ৮
সৌম্য সরকার ৫ ৮
রুবেল হোসেন ৬ ৮

ক্রীড়া প্রতিবেদক