রাসেল ঝড়ে ফাইনালে রাজশাহী
জয়ের খুব কাছেই ছিল চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। কিন্তু শেষের দিকে খেলার গতিপথ পুরোই পাল্টে দিলেন রাজশাহী অধিনায়ক আন্দ্রে রাসেল। রুবেল-রানাদের উড়িয়ে দিয়ে মাত্র ২২ বল খেললেন ৫৪ রানের ঝড়ো ইনিংস। তাঁর ব্যাটে চড়ে চট্টগ্রামকে নাটকীয়ভাবে দুই উইকেটে হারাল রাজশাহী রয়্যালস।
এই দারুণ জয়ে বঙ্গবন্ধু বিপিএলের ফাইনালে উঠে গেল রাজশাহী। আগামী ১৭ জানুয়ারি ফাইনালে খুলনা টাইগার্সের মুখোমুখি হবে আন্দ্রে রাসেলের দল।
টুর্নামেন্টজুড়ে দাপট দেখানো রাজশাহী প্রথম কোয়ালিফায়ারে হেরেছে খুলনার কাছে। কিন্তু আজ আর ফাইনালে ওঠার দ্বিতীয় সুযোগটি নষ্ট করল না তারা। শুরুরদিকে বিপদে পড়লেও অধিনায়কের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ফাইনালের টিকেট পেয়ে গেল রাজশাহী।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ওভার ১৬৪ রান সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। জবাবে ব্যাট করতে নেমে চার বল হাতে রেখে জয় তুলে নেয় রাজশাহী রয়্যালস।
এদিন আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় চট্টগ্রাম। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে হারায় জিয়াউর রহমানকে। পুরো টুর্নামেন্টে ছন্দে থাকা ইমরুলও আজ হাল ধরতে পারেননি। ষষ্ঠ ওভারে এসে তাঁকে ফিরিয়ে দেন রাজশাহী অধিনায়ক আন্দ্রে রাসেল।
ব্যাট করতে নেমে বিপদে পড়তে পারতেন মাহমুদউল্লাহ্ও । ৫.৩ তম ওভারে মাহমুদুল্লাহকে এলবির ফাঁদে ফেলতে আবেদন করেন রাসেল। রাজশাহী অধিনায়কের আবেদনে সাড়াও দেন আম্পায়ার। কিন্তু সফল রিভিউতে সেই যাত্রায় বেঁচে যান চট্টগ্রাম অধিনায়ক।
অবশ্য রাজশাহীর বিপক্ষে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন গেইল। মোহাম্মদ নেওয়াজের বলে ছক্কা হাঁকিয়ে মাত্র ২১ বলে স্পর্শ করেন ব্যক্তিত হাফসেঞ্চুরি। ছুটতে থাকা গেইলকে থামান আফিফ হোসেন। দশম ওভারে নিজের প্রথম ওভার করতে আসেন আফিফ। ওভারের প্রথম বলে ছক্কা হাঁকিয়ে বল মাঠ ছাড়া করেন গেইল। পরের বলেই গেইলকে বোল্ড করেন আফিফ। ফেরার আগে মাত্র ২৪ বলে ৬০ রান করেন ক্যারবীয় এ তারকা। যাতে ছিল ছয় বাউন্ডারি ও পাঁচ ছক্কা।
গেইল ফেরার পর ঝড় তোলার আভাস দেন মাহমুদউল্লাহ্। কিন্তু চট্টগ্রাম অধিনায়ককে স্থায়ী হতে দেননি নেওয়াজ। ১৮ বলে ৩৩ রান করে ফেরেন তিনি। এরপর অবশ্য রানের গতি বাড়াতে পারেনি চ্যালেঞ্জার্সরা। শেষের দিকের ব্যাটসম্যানদের ওপর ভর করে নির্ধারিত ওভারে ১৬৪ রান সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স।
রাজশাহীর পক্ষে বল হাতে দুটি করে উইকেট নেন মোহাম্মদ ইরফান ও মোহাম্মদ নেওয়াজ। একটি করে নেন আন্দ্রে রাসেল, অলক কাপালি ও আফিফ হোসেন।
জবাব দিতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই আফিফ হোসেনকে হারায় রাজশাহী। পরের ওভারে সাজঘরের পথে হাঁটেন লিটন দাসও। এরপর ষষ্ঠ ওভারে হারায় অলক কাপালিকে। মাত্র ৩৪ রানে তিন উইকেট হারানোর পর মালিক-শুক্কুর ধরেন রাজশাহীর হাল। এই জুটিতে রাজশাহী ৪৬ রান তুললেও রানের রানের গতি তেমন বাড়েনি।
১৫তম ওভার পর্যন্ত টিকে ছিলেন শুক্কুর। কিন্তু ধীর গতিতে খেলে দলকে বাঁচাতে পারেননি। ৪২ বলে ৪৫ রানে শুক্কুর ফিরে ফেলে বিপদে পড়ে যায় রাজশাহী। সেখান থেকে দলকে রক্ষা করেন আন্দ্রে রাসেল। দলের চরম বিপদে ব্যাট করতে নেমে দলকে একাই জয়ের বন্দরে নিয়ে যান ক্যারিবীয় তারকা।
চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স : ২০ ওভারে ১৬৪/৯ ( জিয়াউর ৬, গেইল ৬০, ইমরুল ৫, মাহমুদউল্লাহ্ ৩৩, নুরুল ০, ওয়ালটন ৫, এমরিত ৩, গুনারত্নে ১৬, রানা ০, নাসুম ০; ইরফান ৪-১-১৬-২, জায়েদ ১-০-১৬-০, মালিক ১-০-১৮-০, রাব্বি, রাসেল ৩-০-৩৫-১, নেওয়াজ ৪-১-১৩-২, অলক ৩-০-১৯-১, আফিফ ১-০-২০-১)।
রাজশাহী রয়্যালস : ১৯.২/ ওভারে ১৬৫/৮ ( লিটন ৬, আফিফ ২, শুক্কুর ৪৫, অলোক ৯, মালিক ১৪, নেওয়াজ ১৪, ফরহাদ ৬, রাব্বি ০, রাসেল ৫৪, রাহী ৫ ; রানা ৪-০-৪৭-১, রুবেল ৪-০-৩২-২, এমরিত ৪-০-৪১-২, নাসুম ২-০-১১-০, মাহমুদউল্লাহ্ ১-০-১০-১, জিয়া ৪-০-১৬-১)।
ফল : দুই উইকেটে জয়ী রাজশাহী রয়্যালস।

ক্রীড়া প্রতিবেদক