কেন উপেক্ষার শিকার ছোট দলগুলো?
ক্রিকেটে ছোট দলগুলির প্রতি বড় দলগুলোর উপেক্ষা খুব বেশি করেই চোখে পড়ে। ক্রিকেটের নবীন দেশগুলোর সঙ্গে খেলতে খুব একটা আগ্রহ দেখায় না বড় দলগুলো। বছরের পর বছর উপেক্ষার শিকার হতে হয় তথাকথিক ‘চুনোপুঁটি’দের। যার সাম্প্রতিক উদাহরণ বাংলাদেশ।
২০০০ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর এই প্রথম ভারতে গিয়ে টেস্ট খেলছে বাংলাদেশ। এই ১৬ বছরে বাংলাদেশ-ভারত মাত্র আটটি টেস্টে মুখোমুখি হয়েছে। তবে বঞ্চনার ইতিহাসে একক দল নয় বাংলাদেশ। টেস্ট র্যাংকিংয়ের তলানিতে থাকা জিম্বাবুয়েও ভারতের বিপক্ষে কোনো টেস্ট খেলতে পারেনি ২০০৫ সালের পর থেকে। তবে মজার ব্যাপার হলো, ভারত, পাকিস্তানের মতো দলগুলোকেও কিন্তু শুরুর দিকে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের মতো বড় দলগুলোর উপেক্ষার শিকার হতে হয়েছে।
১৯৩২ সালে লর্ডসে টেস্ট অভিষেক হওয়ার পর ১৯৪৭ সালে ক্রিকেটের অপর প্রভাবশালী দেশ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট খেলার সুযোগ পায় ভারত। সেই সিরিজে পাঁচ টেস্ট খেলার পর আবার আট বছর পর অজিদের বিপক্ষে টেস্ট খেলে ভারত। সেটা আবার নিজেদের দেশে। ক্যাঙ্গারুর দেশে অজিদের বিপক্ষে খেলতে ভারতকে অপেক্ষা করতে হয়েছে আরো ২০ বছর। ১৯৬৭ সালে দ্বিতীয়বারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাঠে টেস্ট খেলে ভারত।
কেবল ভারত নয়। অস্ট্রেলিয়ার কাছ থেকে বঞ্চনার শিকার হয়েছে পাকিস্তানও। ১৯৫২ সালে টেস্ট খেলার অনুমোদন পেলেও ১২ বছর পর মাত্র এক টেস্ট খেলার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় যায় পাকিস্তান। সে বছরই প্রথম নিউজিল্যান্ড সফর করে এশিয়ার দলটি। ১৯৯২ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট খেলার জন্য জিম্বাবুয়েকে অপেক্ষা করতে হয়েছে সাত বছর।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ভারত সফরের জন্য কেন এত বছর অপেক্ষা করতে হলো বাংলাদেশকে। বলাই বাহুল্য, এর অন্যতম কারণ ভারতীয় ক্রিকেট বাণিজ্যমুখীনতা। কয়েক বছর আগেও দল হিসেবে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল অনিয়মিত। আর এই ধরনের দল দেশে নিয়ে খেললে দর্শক হবে না ভেবেই হয়তো এত দিন বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানায়নি ভারত।
বর্তমানে ক্রিকেটের যে এফটিপি (ফিউচার ট্যুর প্লান) বা ক্রিকেটীয় ক্যালেন্ডার কয়েক বছর আগে সেটা আইসিসি নির্ধারণ করত। তবে এখন অর্থের বিষয়টা মাথায় রেখে দুই দেশের বোর্ডই আন্তরাষ্ট্রীয় সিরিজগুলোর আয়োজন করে। তাই কূটনৈতিক চেষ্টাতে ভারত সফরের বিষয়ে বিসিসিআইকে মানাতে সক্ষম হয়েছে বিসিবি। আর এই কারণে শেষ পর্যন্ত ভারতে গিয়ে খেলছে বাংলাদেশ।
আর গত কয়েক বছর ধরে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে দারুণ খেলছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশের ক্রিকেটের গ্রাফটা উদ্ধমুখী। এই সময়ে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলগুলোকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ভারত এবার বুঝতে পেরেছে দেশের মাটিতে বাংলাদেশকে ডাকলে অন্য যেকোনো দলের চেয়ে কম লাভবান হবে না তারা। আর সেই কারণেই বিসিবির ডাকে সাড়া দিয়ে সাকিব-তামিমদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে কোহলির দেশ।

স্পোর্টস ডেস্ক