দারুণ লড়াই শেষে দ্বিতীয় জয় সিলেটের
শুরুর বিপর্যয়েই লড়াইটা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল ঢাকা ক্যাপিটালসের জন্য। তবে বাকিদের ব্যর্থতার ভিড়ে একাই লড়াই চালিয়ে গেলেন শামীম হোসেন পাটোয়ারি। আশা জাগিয়েছিলেন তিনি। মাঝের কয়েক ওভারে সিলেট টাইটান্সের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের কারণে তীরে গিয়েও তরী ডুবেছে ঢাকার। এতে দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে সিলেট।
আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে হারিয়ে ১৭৩ রানের পুঁজি দাঁড় করিয়েছিল সিলেট। জবাব দিতে নেমে ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৬৭ রান করতে পেরেছিল ঢাকা। সিলেট জয়ে পেয়েছে ৬ রানে।
সিলেটের জয়ের নায়ক আফগান অলরাউন্ডার আজমতউল্লাহ ওমরজাই। প্রথম ম্যাচে মাঠে নেমেই দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন তিনি। ব্যাট হাতে ঝড় তুলে ২৪ বলে খেলেছেন ৫০ রানের অপরাজিত ইনিংস। এরপর বল হাতে শিকার করেছেন ৩ উইকেট।
রান তাড়ায় নেমে শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় ঢাকা ক্যাপিটালস। সিলেটের বোলারদের সামনে সুবিধা করতে পারেননি তারা। পুরো ইনিংসে মোটে তিনজন ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘর স্পর্শ করতে পেরেছেন। উসমান খান ১৫ বলে ২১ রান, সাব্বির রহমান ১৯ বলে ২৩ রান আর শামীম ৪৩ বলে ৮১ রান করেছেন।
আজমতউল্লাজ ওমরজাই, মোহাম্মদ আমির আর নাসুম আহমেদদের তোপে দলীয় ৫০ রানের আগেই ৫ উইকেট হারায় ঢাকা। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে জুবাইদ আকবরীকে (৫ বলে ১রান) ফিরিয়ে যার শুরুটা করেন আমির।
এরপর সাইফ হাসান ১৭ বলে ৯,মোহাম্মতদ মিঠুন ১ বলে ০, উসমান খান ১৫ বলে ২১ আর নাসির হোসেন ৪ বলে ৫ রান করে ফেরেন।
পরে শামীম হোসেন সাব্বির রহমানকে নিয়ে ৪৮ রানের জুটিতে ধ্বংস্তুপের ওপর দাঁড়িয়ে লড়াই জমিয়ে তুলেন। ১৯ বলে ২৩ রান করে সাব্বির ফিরলে সেই লড়াইয়ে আবারও ভাটা পড়ে। দ্রুতই ফিরে যান ইমাদ ওয়াসিম (১০ বলে ৮) আর সাইফউদ্দিন (২ বলে ০)।
এরপরও একপ্রান্ত আগলে রেখে আশা বাঁচিয়ে রাখেন শামীম। তাসকিনের সঙ্গে গড়েন ৫১ রানের জুটি। জয়ের তরি তীরে নিয়েও নোঙর করতে পারেননি। হেরেছেন ৬ রানে। ৪৩ বলে ৮১ রান করে অপরাজিত থাকেন শামীম।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি সিলেটের। দলীয় ১৫ রানেই প্রথম উইকেট হারায় তারা। ওপেনার রনি তালুকদারের উইকেট তুলে নেন সালমান মির্জা। তিনি ফেরেন ৭ বলে ১১ রানে। তিনে নেমে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। তাসকিনের শিকার হয়ে ফিরেছেন ৭ বলে ৬ রান করে।
এরপর দলের হাল ধরেন ওপেনার সাইম আইয়ুব আর পারভেজ হোসেন ইমন। তৃতীয় উইকেটে ৬৪ রানের জুটি গড়ে শুরুরু ধাক্কা সামাল দেন তারা। ২৯ বলে ২৯ রানের মন্থর ইনিংস খেলে সাইম ফিরলে ভাঙ্গে সেই জুটি।
টানা তৃতীয় হাফসেঞ্চুরির কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন পারভেজ ইমন। দ্রুতগতির ব্যাটিংয়ে ৩২ বলে ৪৪ রান করেন তিনি। এরপর সাইফ হাসানকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে সাব্বির রহমানকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। এরপর ১১ বলে ১৩ রান করে দ্রুতই ফেরেন আফিফ।
শেষ দুই ওভারে রীতিমতো ঝড় তুলেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই আর ইথান ব্রুকস। সালমান মির্জার ১৯তম ওভার থেকে নেন ২২ রান। তাসকিনের শেষ ওভার থেকে নেন ১৬ রান। ইনিংসের শেষ বলে চার মেরে হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন ওমরজাই।
১৫০ রান নিয়ে শঙ্কায় থাকা সিলেটকে লড়াইয়ের বড় পুঁজি এনে দেন এই দুজন। শেষ পর্যন্ত ওমরজাই ৫ চার আর ৩ ছক্কায় ২৪ বলে ৫০ রান আর ইথান ৬ বলে ১৩ রানে অপরাজিত থাকেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
সিলেট টাইটান্স : ২০ ওভারে ১৭৩/৫ (সাইম ২৯, রনি ১১, মিরাজ ৬, ইমন ৪৪, আফিফ ১৩, ওমরজাই ৫০*, ইথান ১৩*; ইমাদ ৩-০-১৪-০, তাসকিন ৪-০-৪৬-১, সালমান ৪-০-৪৬-২, নাসির ৩-০-২০-০, সাইফউদ্দিন ৪-০-৩২-১, সাইফ ২-০-১৩-১)
ঢাকা ক্যাপিটালস : ২০ ওভারে ১৬৭/৮ (সাইফ ৯, জুবাইদ ১, উসমান ২১, মিঠুন ০, নাসির ৫, সাব্বির ২৩, ইমাদ ৮, সাইফউদ্দিন ০, শামীম ৮১*, তাসকিন ৩*; আমির ৪-১-৩০-২, নাসুম ৪-০-২৬-২, ওমরজাই ৪-০-৪০-৩, মিরাজ ৩-০-১৯-১, খালেদ ৩-০-২৫-০, সাইম ১-০-১৪-০, আফিফ ১-০-৬-০)
ফলাফল : ঢাকা ক্যাপিটালস ৬ রান জয়ী।

স্পোর্টস ডেস্ক