শেষ ওভারে রাজশাহীকে হারিয়ে ফাইনালে প্রথম দল চট্টগ্রাম
ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ১০০ রান করাই কঠিন হয়ে পড়া রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকে শেষদিকে ক্যামিও খেলে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দিয়েছিলেন আবদুল গাফ্ফার সাকলাইন। পরে স্বল্প রানের সেই পুঁজি নিয়েও শেষ ওভার পর্যন্ত ম্যাচ নিয়ে গিয়েছিল রাজশাহী। তবে শেষ ওভারের হাসিটা হেসেছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে দলকে জিতিয়ে প্রথম দল হিসেবে চট্টগ্রামকে ফাইনালে তুলেন শেখ মেহেদী।
আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত সবগুলো উইকেট হারিয়ে ১৩৩ রান সংগ্রহ করে রাজশাহী। জবাব দিতে নেমে ১৯.৩ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় চট্টগ্রাম। জয় তুলে নেয় ৬ উইকেটে।
রান তাড়ায় নেমে দেখেশুনে এগোন চট্টগ্রাম রয়্যালসের দুই ওপেনার মির্জা তাহির বেগ আর মোহাম্মদ নাঈম শেখ। রাজশাহীর বোলারদের শাসন করে এগিয়ে নেন দলকে। প্রথম ১০ ওভারে কোনো সুযোগই দেননি রিপন মন্ডল-জেমি নিশাম-আবদুল গাফ্ফার সাকলাইনদের। স্বল্প রানের তাড়ায় নেমে উদ্বোধনী জুটিতে তুলে নেন ৬৪ রান।
১২তম ওভারে গিয়ে অবশেষে সেই জুটিতে ভাঙন ধরান সাকলাইন। ওভারের তৃতীয় বলে তানজিদ হাসান তামিমের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান নাঈমকে। ফেরার আগে ৩৮ বলে ৩০ রান করেন তিনি।
এরপর উইকেটে এসে তেড়েফুঁড়ে খেলার চেষ্টা করেন হাসান নাওয়াজ। রিপন মন্ডলকে এক ওভারে দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে সমীকরণ সহজ করে আনেন। তবে বেশি সময় তাকে উইকেটে টিকতে দেননি হাসান মুরাদ। তামিমের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ১৪ বলে করেন ২০ রান।
এরপর দ্রুতই আসিফ আলিকে (৮ বলে ১১) ফিরিয়ে ম্যাচের লাগাম কিছুটা নিজেদের দিকে টেনে আনে রাজশাহী। শেষ ওভারে চট্টগ্রামের প্রয়োজন ছিল ১৯ রান। বিনুরা ফার্নান্দোর প্রথম চার বল থেকেই ৯ রান নিয়ে নেয় চট্টগ্রাম। তবে পঞ্চম বলে উইকেটে থিতু হওয়া ওপেনার মির্জা তাহির বেগকে ফিরিয়ে ম্যাচে উত্তেজনা টিকিয়ে রাখেন। তাহির করেন ৪৭ বলে ৪৫ রান।
রিপন মন্ডলের করা শেষ ওভারে ৯ রানের সমীকরণ প্রথম তিন বলেই মিলিয়ে ফেলে চট্টগ্রাম। প্রথম বলে ১ রান নেন আমের জামাল। দ্বিতীয় বলে ছক্কা হাঁকান শেখ মেহেদী। তৃতীয় বলে ১ রান নিয়ে জয় নিশ্চিত করেন। মেহেদী অপরাজিত থাকেন ৯ বলে ১৯ রানে আর জামাল ২ বলে ২ রানে।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে মন্থর গতিতে শুরু করেন রাজশাহীর দুই ওপেনার। দেখেশুনে খেলার চেষ্টায়ও উইকেট না হারিয়ে পাওয়ার-প্লে শেষ করতে পারেননি। পাওয়ার-প্লের শেষ ওভারে দলীয় ৩০ রানে বিদায় নেন শাহিবাজাদা ফারহান। ১৯ বলে ২১ রান আসে তার ব্যাট থেকে।
তিনে নেমে দায়িত্ব নেওয়ার চেষ্টায় ব্যর্থ হন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। দ্রুত তিন উইকেট তুলে নিয়ে রাজশাহীকে চেপে ধরে চট্টগ্রাম রয়্যালস। নবম ওভারে পরপর দুই বলে দুই উইকেট তুলে নেন শেখ মেহেদী। ওভারের তৃতীয় বলে বোল্ড করে ফেরান শান্তকে (১১ বলে ৮)। পরের বলে গোল্ডেন ডাক খাইয়ে ফেরান মুশফিকুর রহিমকে। ওভার তিনেক পরে আকবর আলীকে (১০ বলে ৩) ফেরান মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ।
বাকিদের যাওয়া-আসার ভিড়ে একপ্রান্ত আগলে রেখে দলের রানের চাকা সচল রাখছিলেন তানজিদ হাসান তামিম। কিন্তু হাফসেঞ্চুরির কাছে গিয়ে আউট হয়ে যান তিনিও। তার ব্যাট থেকে আসে ৩৭ বলে ৪১ রান।
এরপর রাজশাহীর স্বীকৃত দুই ব্যাটার ছিলেন কেবল জিমি নিশাম আর রায়ান বার্ল। গুরু দায়িত্ব ছিল তাদের দুজনের ওপর। হতাশ করে ফেরেন নিশাম। ৯ বলে ৬ রান করে মির্জা তাহির বেগের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তিনি। পরের ওভারে ফিরে যান বার্লও (৮ বলে ৬)।
শেষ দিকে ব্যাটহাতে ঝড় তুলে লড়াকু পুঁজি এনে দেন আব্দুল গাফ্ফার সাকলাইন। ৩ ছক্কা আর ২ চারে ১৫ বলে ৩২ রান করেন তিনি। এতে ১৩৩ রানের পুঁজি পায় রাজশাহী।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স : ২০ ওভারে ১৩৩/১০ (শাহিবজাদা ২১, তামিম ৪১, শান্ত ৮, মুশফিক ০, আকবর ৩, নিশাম ৬, বার্ল ৩, সাকলাইন ৩২, রিপন ১০, বিনুরা ৩, মুরাদ ১*; শরিফুল ৪-০-১৬-১, মুকিদুল ২-০-২০-১, তানভীর ৩-০-২৩-১, মেহেদী ৪-০-২০-২, তাহির ৩-০-২৩-১, জামাল ৩-০-২৭-২, নাওয়াজ ১-০-৩-১)
চট্টগ্রাম রয়্যালস : ১৯.৩ ওভারে (নাঈম ৩০, হাসান ২০, আসিফ ১১, তাহির ৪৫, মেহেদী ১৯*, জামাল ২*; বিনুরা ৪-০-২৪-১, ৩.৩-০-৩৩-০, নিশাম ৪-০-২৬-০, সাকলাইন ৪-০-২০-২, মুরাদ ৪-০-২৬-১)
ফলাফল : চট্টগ্রাম রয়্যালস ৬ উইকেট জয়ী।

ক্রীড়া প্রতিবেদক